এই তো আমার বাংলাদেশ

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধুকুরঝারি গ্রাম। এই গ্রামে লিচুবাগান লিজ নিয়েছেন আবদুল করিমের বাবা। করিমদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। কলেজ বন্ধ দেখে বাবার লিজ নেওয়া লিচুবাগান দেখভালের কাজে এসেছেন ধুকুরঝারিতে। শেষ বিকেলে ধুকুরঝারির ধানক্ষেতে খাবার খুঁটছিল একটি বিরল প্রজাতির মদনটাক পাখি। গ্রামের তিন দুরন্ত যুবক সেই পাখিটিকে ধরে জবাই করে খাবার জন্য তেল-মসলা সংগ্রহে লেগে যায়। এ পাখিটি বাঁচানোর জন্য দিশাহারা হন আবদুল করিম। তিন যুবককে নানাভাবে অনুরোধ করেন। ‘এ পাখিটা খেয়ে কী হবে ভাই? কতটুকু মাংস পাবেন ভাগে? পাখিটা ছেড়ে দিন, ওর জীবনটা বাঁচান।’

করিমের কথা তো সেই যুবকরা শোনেই না, উল্টো তাঁকে হুমকি দেয়। ওই এলাকার কাউকেই তেমন করে চেনেন না করিম। ছুটে বাজারে আসেন। আমাদের কালের কণ্ঠ’র ফোন নম্বর জোগাড় করে পাখিটা বাঁচানোর অনুরোধ জানান। কালের কণ্ঠ অফিস থেকে আমরা দিনাজপুর প্রতিনিধিকে ব্যাপারটা জানাই। আমাদের প্রতিনিধি বিরল থানার পরিদর্শক তাপসচন্দ্র পণ্ডিত ও দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমকে বিষয়টি জানান। জেলা প্রশাসক জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেন। বিরল থানার পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপর করে। ব্যাপারটার সঙ্গে জড়িয়ে যান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেই তিন যুবককে নিজের পকেট থেকে ৩০০ টাকা বকশিশ দিয়ে পাখিটা উদ্ধার করেন। তরুণ আবদুল করিমের চেষ্টায় জীবন বাঁচে মদনটাক পাখির।

নালিতাবাড়ী শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে ব্রজেন্দ্র মাস্টারের বাড়ি। এ বাড়ির গাছপালায় যেন পাখির মেলা। সারাক্ষণ বক আর পানকৌড়ির কোলাহলে মুখর বাড়িটি। সকাল-সন্ধ্যায় পানকৌড়ি আর বক আসে ঝাঁকে ঝাঁকে। নির্ভয়ে বসবাস করে বাড়ির মানুষের সঙ্গে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ব্রজেন্দ্র মাস্টার একটি পাখিরও অনিষ্ট হতে দেননি কখনো। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পাখির সংখ্যা। ব্রজেন্দ্র মাস্টারের বাড়ির গাছপালায় তাদের জায়গা হয় না। ফলে গ্রামের আরো দুটি পাড়ায় বক আর

পানকৌড়ির অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে। ব্রজেন্দ্র মাস্টার বলেন, পাখিগুলো আমার পরিবারের সদস্য। তাদের আমি আমার সন্তান মনে করি।

যে বাংলাদেশে একসময় পাখি শিকারে মেতে উঠত মানুষ, সেই বাংলাদেশ এখন হয়ে উঠেছে পাখিদের জন্য নিরাপদ দেশ। দেশের বহু এলাকায়, বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের গাছপালায় ঘেরা বাড়িতে গড়ে তুলেছে পাখির অভয়াশ্রম। দুবেলা তদারক করে পাখির। প্রয়োজনে খেতে দেয়। একটি পাখিরও অনিষ্ট হতে দেন না।

এই তো আমার বাংলাদেশ।

সাদিকুর রহমানের বয়স ৬৩। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালে যে হাতে দেশের স্বধীনতার জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন, সেই হাতে তিনি এখন নগরের এদিক-ওদিক যেখানে একটু ফাঁকা জায়গা পাচ্ছেন, সেখানেই গাছের চারা লাগাচ্ছেন। নগরবাসীর চোখের সামনে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন সবুজের সমারোহ। অক্সিজেনের জোগান দিচ্ছেন নগরবাসীকে। নিজের টাকায় গাছের চারা কিনে বিজয় সরণি আগারগাঁও, শ্যামলী, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে চলেছেন তিনি। বৃক্ষপ্রেমী এ মানুষটি ২০০৪ সাল থেকে শুরু করেছেন তাঁর এই স্বপ্নযাত্রা। সবুজ রাজধানী তাঁর স্বপ্ন। গত বছর শুধু রাজধানীতেই তিন হাজার ফলদ গাছ লাগিয়েছেন। সাদিকুর রহমান থাকেন মিরপুরের পাইকপাড়ায়। প্রতিদিন সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরোন। কোথাও গাছ লাগান, কোথাও গাছের পরিচর্যা করেন, না হয় পথসভা করেন গাছ রোপণের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য। সারা দিন এ কাজে ব্যয় করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান ১০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া পান ২০ হাজার টাকা। এই আয়ের অনেকখানি ব্যয় করেন গাছের জন্য। প্রথম প্রথম স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে বাধা পেতেন। সবাই মনে করত, তিনি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছেন। তাদের তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। গাছ লাগিয়ে আমি দেশের কাজ করছি। আমাকে আমার কাজটা করতে দাও।’

এই তো আমার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা।

এ রকম বহু মানুষের কথা আমি বলতে পারি। কেউ পরিবেশ রক্ষার জন্য পাখি বাঁচাচ্ছেন, কেউ বৃক্ষ রোপণ করে দেশ সবুজ করছেন, কেউ বা গ্রামে গ্রামে ঘুরে আলোকিত মানুষ গড়ার উদ্দেশ্যে বিনা মূল্যে বই পৌঁছে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে। কেউ পাঠাগার গড়ে তুলেছেন, কেউ মানুষকে সচেতন করার কাজ করেছেন। সমাজ সংস্কারের ভূমিকায় নিয়োজিত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের দেশপ্রেমী বহু মানুষ।

সুন্দরবন নামে এক গ্রামের কথা বলি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এই গ্রাম। বাল্যবিবাহের জন্য দুর্নামগ্রস্ত গ্রাম সুন্দরবন। প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে হাই স্কুলে পা রাখতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া হয় এই গ্রামের মেয়েদের। একসময় গ্রামের ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত মেয়েরা নামল গ্রামটিকে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। স্কুলের ৩৫ জন মেয়ে মিলে তৈরি করল ‘বেস্ট স্কুল গার্লস কমিটি’। গ্রামের কোনো মেয়ের বাল্যবিবাহের আয়োজন হলেই তারা একসঙ্গে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে প্রথমে অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করে। অভিভাবকরা বুঝতে না চাইলে প্রশাসনের সাহায্য নেয়। বাল্যবিবাহ ঠেকায়। কোনো মেয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিলে যেকোনোভাবে তাকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। নানা রকম কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করে। যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সুন্দরবন স্কুলের মেয়েরা ১০০ ভাগ সফল। কোনো মেয়ে বখাটেপনার শিকার হলে স্কুলের লাইব্রেরিতে রাখা অভিযোগ বাক্সে ওই বখাটে ও তার সহযোগীদের নাম লিখে ফেলে দেয়। স্কুল ছুটির পর কমিটির মেয়েরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। ব্যবস্থা নিতে অভিভাবকরা ব্যর্থ হলে প্রশাসনের সাহায্যে বখাটেদের শাস্তির ব্যবস্থা করে।

এই স্কুলের মেয়েরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে নজির স্থাপন করেছে। ক্রিকেট-ফুটবলে ওই স্কুল এলাকার চ্যাম্পিয়ন।

এ রকম বাংলাদেশই তো আমরা চাই।

শুধু উন্নয়নের ছোঁয়া নয়, প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের গতি সঞ্চার হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহে চার লেনের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ শেষ পর্যায়ে। পায়রা বন্দর চালুর অপেক্ষায়। সারা দেশে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডাবল লেন করার কাজ শেষ পর্যায়ে। নতুন নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে রেলবহরে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্যাপক গতি এসেছে। রাজধানীতে বেশ কিছু ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। আরো কয়েকটি অচিরেই উন্মুক্ত হবে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে মেট্রো রেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট সংক্ষেপে বিআরটি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে পাতাল রেল ও বুলেট ট্রেন চালু করা হবে।

গত বছর সোয়া দুই বিলিয়ন ডলার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এসেছে দেশে। অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগও বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি যথেষ্ট পরিমাণে কমেছে। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সীমিত পর্যায়ে খাদ্য রপ্তানিও করছে বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা এনেছিল, আমরা সেই স্বপ্নের দিকে অনেকখানি এগিয়েছি।

বাঙালি লড়াই করা জাতি। আমাদের বহু অর্জনের পেছনে কাজ করছে এই লড়াই। কখনো এককভাবে, কখনো সমবেতভাবে দেশ এগিয়ে নেওয়ার জন্য লড়াই করছি আমরা। যেকোনো দুর্যোগে দেশের সর্বস্তরের মানুষ আমরা হাতে হাত ধরে দাঁড়াই। রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর সারা দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চাপা পড়া মানুষগুলোর উদ্ধারে। বন্যায় বাঁধ ভেঙে গেছে কোথাও। এলাকার হাজার হাজার মানুষ নেমে পড়েছে সেই ভাঙন রোধ করতে। ফতোয়াবাজদের রোধ করেছে বাংলাদেশ। এসিড সন্ত্রাস রোধ করেছে। এখন দেশের প্রতিটি মানুষ নেমেছে জঙ্গিবাদ রোধে। দেশের ৫০ লাখ মানুষ সারা দেশে একই সময়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। প্রতিদিন দেশের বহু এলাকায় স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষক-অভিভাবকরা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে প্রায় রাতারাতি জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতন হয়েছে দেশের মানুষ।

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের কথা বলি। তাঁর নাম আফেন্দি নূরুল ইসলাম। নান্দাইলের প্রবীণ ব্যক্তি। স্থানীয় শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। সাহিত্যসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একটি ফেস্টুন হাতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এককভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। নান্দাইল উপজেলার রাস্তায় রাস্তায় ফেস্টুন হাতে ঘুরছেন। ফেস্টুনে লেখা, ‘জঙ্গিপনা নয়, কাম্য মনুষ্যত্ব’। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রশক্তি দখল ও বেহেশত লাভের আশায় মানুষ হত্যা জঘন্যতম ঘৃণ্য কাজ। জঙ্গিপনা নিপাত যাক, বাংলাদেশ চিরঞ্জীব হোক। এই আমার প্রত্যাশা।’

এই তো বাংলার মানুষ।

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দর, যেখানে যাই সেখানেই মানুষের চেহারায় এক ধরনের সুখীভাব আমি লক্ষ করি। পরনে সুন্দর কাপড়, মুখে আনন্দের হাসি। এখন আর একজন মানুষও বাংলাদেশে না খেয়ে মরে না। কাপড়ের অভাবে ঘর থেকে বেরোতে পারে না এমন একজন মানুষও নেই বাংলাদেশে। শীতে গরম কাপড় পাচ্ছে না এমন একজন শিশুও নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামটিতে গেলেও মানুষের মুখের দিকে তাকালে বোঝা যায়, আমাদের মানুষগুলো ভালো আছে।

এই তো আমার বাংলাদেশ।

আমাদের গার্মেন্ট শিল্প পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের কাছে বাংলাদেশকে চিনিয়েছে। চামড়াশিল্প পৌঁছে গেছে অনেক দূর। আমাদের ক্রিকেট টিম পৃথিবীর বড় ক্রিকেট টিমগুলোকে অবিরাম কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের মেয়েরাও জয় করছে এভারেস্ট। বহু অর্জন আমাদের, বহু।

মাঝে মাঝে বিশাল এক স্বপ্নের সামনে গিয়ে দাঁড়াই আমি। সেই স্বপ্নের নাম পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর ঠিক গোড়ায় আমার গ্রাম মেদিনীমণ্ডল। যখনই ওদিকটায় যাই, ঘুরে ঘুরে দেখি কত দূর এগোল স্বপ্নের সেতু। এ এক অবিশ্বাস্য কর্মযজ্ঞ। যে মাওয়া এলাকা এবং তার চারপাশ ছিল নির্জন গ্রাম, সেই এলাকা এখন স্বপ্নভূমি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ তৈরি করছে পদ্মা সেতু। এ যে কত বড় অর্জন, বলে বোঝানো যাবে না। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেল সংযোগ প্রকল্প। ভাবলেই আনন্দে শিহরিত হয় শরীর। মাওয়া এলাকায় গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয়, বাংলাদেশ যেন তার স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এই তো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ।

বাবার স্বপ্ন পূরণ করে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এই বাংলাদেশই তো আমরা চেয়েছিলাম।