১৫ বছরে ভারতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে ভারতের আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুসারে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৪ কোটি ডলার। গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, গত দুই বছরে ভারতের রপ্তানি আয় কমলেও বেড়েছে বাংলাদেশের। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভারতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৬ শতাংশ। এ ছাড়া জুলাই ২০১৫ থেকে মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ভারতের রপ্তানি কমেছে ৪.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে গত দুই বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩০.৮ শতাংশ। এর আগের বছর ছিল ১৫.৪ শতাংশ। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ২০০১-০২ সাল থেকে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এ সময় ভারতে ১০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ভারতের বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।  ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত ২০১১ সাল থেকে তামাক ও অ্যালকোহল ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। ভারতের বাজারে ঢোকার এ সুবিধা সবটুকু কাজে লাগাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ ছিল মাত্র পাঁচ কোটি ৬৮ কোটি ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে আট কোটি ২৭ মিলিয়ন ডলার। ভারতের পর্যটন খাতে বাংলাদেশ একটি বড় অবদানকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি সহজ করা হয়েছে। গত ঈদের সময় ভিসা ক্যাম্প করে প্রায় ৬০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়েছে। ভোজসভার শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাস আগের চেয়ে উদার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশিরা ভারতে গিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাবে বলে আশা করা যায়। নাসিম মঞ্জুর আরো বলেন, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ডিউটি ফ্রি সুবিধা থাকলেও কিছু আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীদের এখনো সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার কারণেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যার মধ্যে রয়েছে সরু সড়ক, ওয়্যারহাউসের স্থান স্বল্পতা, ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পদ্ধতিতে ধীরগতি এবং উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। এসবের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় বেশি লাগে, ফলে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়।