সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী ৪০০ নারী

পলাশ উপজেলায় সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে দারিদ্রতাকে জয় করেছে স্কুল, কলেজের ছাত্রীসহ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ৪শ’ নারী। তারা এখন স্বাবলম্বী। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রি সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন এসব নারী। স্কুলছাত্রী আসমা, সুমী, পারুল, মোমেনা খাতুন জানান, এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা এখন ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারছি। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই চালাতে পারছি। এর ফলে পরিবারের কেউ এখন তাদের বোঝা মনে করেন না। বরং তারাই এখন সংসারের হাল ধরেছে। চরসিন্দুরের স্বামী পরিত্যক্ত শাহানাজ আক্তার সুমী বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর দু’চোখে কিছুই দেখছিলাম না। সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারছি। আল্লার রহমতে অনেক ভাল আছি ছেলে-মেয়ে নিয়ে। চরসিন্দুর সুলতানপুরের গৃহবধু হাবেজা বেগম জানায়, তার স্বামী যে আয় করত তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তিনি নিজেই সেলাই কাজ করে মাসে ৬-৭ হাজার টাকা আয় করছেন। গৃহবধূ বিলকিস জানান, তার স্বামী চাকরি করে যে আয় করেন তাতে বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হতো। সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন নিজেই বিভিন্ন কাজ করে ৫-৬ হাজার টাকা আয় করছেন। গজারিয়া ইউনিয়নের গৃহবধু মরিয়ম জানান, লেখাপড়া শেষ না হতেই বিয়ে হয়ে যায়। তারপর স্বামী ও সংসার সামলাচ্ছি। তবে ইচ্ছে ছিল নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার। সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আমাদের সে পথ দেখিয়েছে। তাদের মতো অনেকের সংসারে এখন সচ্ছলতা ফিরেছে। সেখানে কর্মরত সদস্যরা জানান, আগে আমাদের সামান্য অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হতো। ইচ্ছেমতো পরিবার ও সন্তানদের ভালো মন্দ কোনো কিছু কিনো দিতে পারতাম না। কিন্তু বর্তমানে এখানে হাতের কাজ শিখে নিজেরাই বাড়ি বসে সচ্ছলভাবে সংসার চালিয়ে ও কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারছি। এসব নারীদের সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বদলে দিয়েছে তাদের জীবন। এখন তারা অনেকটাই আত্মপ্রত্যয়ী। গত কয়েক বছরে সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পলাশ উপজেলার চার শতাধিক নারী খুঁজে পেয়েছে তাদের কাঙ্ক্ষিত পথ। ২০১২ সালে ৯ই ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে উপজেলা চরসিন্দুর ইউনিয়ন থেকে এ সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণের যাত্রা শুরু করেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল মুজাহিদ হোসেন তুষার। তিনি বলেন, আমি আর আমার মা নিগার সুলতানাকে নিয়ে শিক্ষিত বেকার ছাত্রী, হতদরিদ্র মহিলা, বিধবাদের কিভাবে স্বাবলম্বী করা যায় এই চিন্তা করে আমরা ফ্রি সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করি। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অলস হাতকে কর্মীর হাত বানিয়েছি। এ পর্যন্ত চারশত নারীর হাতকে আমরা কর্মীর হাতে পরিণত করেছি। উপজেলার চরসিন্দুর, গজারিয়া ইউনিয়নে আমরা এর কার্যক্রম শেষ করে করে বর্তমানে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচরপাড়ায় এর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। প্রতিটি ব্যাচে তিন মাস করে আমরা ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে ৬ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তিনি বলেন, প্রথম কয়েকটি ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীকে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছি। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যায় আমরা পাশে দাড়িয়ে আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করেছি। বর্তমানে ১৫ তম ব্যাচ চলছে।