ড্রাগন চাষে সফল শওকত

গাছে গাছে ফল। লাল টকটকে এ ফল এলাকাটাকে করে তুলছে অন্য এক সৌন্দর্যের। মাগুরার সাইত্রিশ ব্রিজ এলাকায় গেলেই মনকাড়া এ দৃশ্য চোখে পড়বে। এলাকাবাসীরা বলছেন, এটা ড্রাগন ফল। মাগুরা সদর উপজেলার আলাইপুর গ্রামের শওকত হোসেন এ ফলের মালিক এবং প্রথম তিনিই ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করে এক মৌসুমে ২ লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যে গোটা এলাকায় পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। তার দেখাদেখি অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ড্রাগন চাষে। মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের সাইত্রিশ ব্রিজ এলাকায় শওকতের ড্রাগন ফলের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে ১৩০টি পিলারে ৫০০টি ড্রাগন গাছে লাল রংয়ের ড্রাগন ফল। যা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। তার ড্রাগন যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে। শওকত জানান, মাগুরা হর্টিকালচারের পরামর্শে গত বছর ৩৫ শতাংশ জমিতে ড্রাগন বাগান তিনি করেছিলেন। প্রথম বছরেই বেশ কিছু মুনাফা পান তিনি। এ বছর কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার ফল তিনি বিক্রি করবেন। যেখানে খরচ মাত্র ৩০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, ড্রাগন চাষে খরচ যেমন কম তেমনি শ্রমের পরিমাণ একেবারেই কম। সামান্য পরিচর্যাতেই এই গাছ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে ও ফল ধরে। বিদেশি ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে বাজারে এটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বাগান থেকেই সরাসরি ক্রেতাদের হাতে এটি চলে যায়। শওকতের বাগান দেখে এলাকার অনেকেই এটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছেন বলে তিনি জানান। মাগুরা হর্টিকালচারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলায় এ পর্যন্ত ড্রাগনের ১৮টি বাগান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে শওকতেরটিই সবচেয়ে বড়।