তিতাস ব্রিজ এলাকা এখন বিনোদন কেন্দ্র

বৈরী আবহাওয়া, এই রোদ এই বৃষ্টি, তাতে কী! আনন্দ, হৈহৈল্লোড় তো আর ধমিয়ে রাখা যায় না। খুব বেশিদূর যেতে না পারলেও নিজ এলাকায় যদি বিনোদনের জন্য ভালো স্থান গড়ে ওঠে, তাহলে তো কথাই নেই! এমন একটি বিনোদন কেন্দ্র তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের অদূরে এই তিতাস ব্রিজ অবস্থিত। তিতাস নদীর ওপর দিয়ে ডাবল রেললাইন হওয়ায় এর গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই সব সময় বিনোদনপ্রেমীদের কাছে টানছে তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা। এখানে পাওয়া যায় এক প্রাকৃতিক নৈসর্গিকতা।

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে বিনোদনপিয়াসীদের কাছে ঘোরাঘুরির স্পট হিসেবে পছন্দের তালিকায় রয়েছে তিতাস ব্রিজ এলাকা। একদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলছে ডাবল রেললাইনের কাজ, অপরদিকে রয়েছে ঢাকা-সিলেট (আখাউড়া) বাইপাস রেলপথ।

তাছাড়া সামান্য দূরেই রয়েছে প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ.)-এর মাজার শরিফ। তাই তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। পৌর শহরসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিনোদনপ্রেমীর ভালো লাগার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তিতাস ব্রিজ এলাকা।

বিকেলে রোদের তাপ কমতে শুরু করলেই বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত অবধি তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সবাই ঘুরে বেড়ান। অনেকেই এখানে এসে কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়া করেন। তিতাস পাড়ে জমে উঠেছে বুট-বাদাম, চটপটি, চানাচুরসহ রকমারি ক্ষুদ্র দোকান।

বাইপাস রেললাইন আর তিতাস ব্রিজের দু’পাশে বর্ষার পানি থৈ থৈ করায় তিতাসের নৈসর্গিক রূপ যেন মানুষের এখানে টেনে আনে। বিকাল হলেই স্ত্রী-সন্তান, পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিনোদনপ্রেমী এখানে এসে আনন্দ আর হৈচৈ করেন রাত অবধি।

আর এ আনন্দঘন সময় স্মৃতিময় করতে অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেলফি তুলছেন। আবার কেউবা ছবি তুলছেন। কেউবা গলা ছেড়ে মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে আসা সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামের মো. আজিম উদ্দিন খান পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন।

সময় কম থাকায় দূরে কোথাও তাদের নিয়ে বেড়াতে যেতে না পেরে এখানে চলে আসেন। তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মনোরম দৃশ্য দেখে তাঁরা খুবই আনন্দিত। স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে আসেন আখাউড়ার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম।

ইচ্ছে করলেই তাঁর পক্ষে দূরে কোথাও বেড়ানো সম্ভব হয় না, তাই এখানে আসা। তিতাস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এখন বিনোদনবঞ্চিত মানুষের একটা আনন্দের স্থান হয়েছে। মুক্ত হাওয়ায় বসে থেকে মনটাকে সতেজ করতে সবাই এখানে আসেন।