উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড়ে নতুন রেকর্ড

উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুত ঋণছাড়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ে। আগের সব রেকর্ড ভেঙে গত অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৩৪৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ঋণ সহায়তা পেয়েছিল ৩০৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছর ২০১৩-১৪-তে ৩০০ কোটি ডলার এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ২৮১ কোটি ডলার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে করা ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির আওতায় গত অর্থবছর বড় ধরনের অর্থছাড় হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকও আগের বছরের তুলনায় গত বছর বেশি অর্থছাড় করেছে। এসব কারণে বৈদেশিক ঋণ সহযোগিতা বেড়েছে বলে মনে করেন ইআরডির কর্মকর্তারা। ইআরডি সূত্র বলছে, গত অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও বেশি পাওয়া গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটি ডলার, গত অর্থবছরে সেটি বেড়ে ৭০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে বৈদেশিক প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ১০০ কোটি ডলার। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিশ্রুতি বাড়লেও মন্ত্রণালয়গুলোর সে অর্থ খরচে এখনো দক্ষতা বাড়েনি। ফলে এখনো দুই হাজার কোটি ডলার অব্যবহৃত পড়ে আছে। অবশ্য ইআরডির কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বছর বাজেটে বৈদেশিক ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি অর্জন সম্ভব হবে। এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, বৈদেশিক অর্থছাড়ের রেকর্ড সরকারের বড় অর্জন। সরকারের বড় বড় কয়েকটি প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় হওয়ার কারণে গত বছর রেকর্ড বৈদেশিক ঋণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি ভালো হয়েছে। এ কারণে বৈদেশিক অর্থছাড়ের রেকর্ড হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইআরডির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে লেখা এক চিঠিতে ইআরডি সচিব বলেন, গত অর্থবছরের প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ কোটি ডলার। এবারে প্রথমবারের মতো প্রতিশ্রুতি ছয় বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৭০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি এবং রাশিয়ার সঙ্গে এক লাখ কোটি টাকার ঋণ চুক্তির কারণে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ বেড়েছে। এদিকে বিদায়ী অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে আগে নেওয়া ঋণ ও ঋণের সুদ মিলে ১৮৮ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। যার মধ্যে মূল ১০৪ কোটি ডলার। আর বাকি ৮৪ কোটি ডলার সুদ বাবদ।