লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েছে। ফলে ৭ মাসেই ছাড়িয়েছে চলতি অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১৬,৬০২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,৬০২ কোটি টাকা বা ৯.৬৫% বেশি। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল সরকারের। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৮৬৪ কোটি টাকা বা ৫.২০%। গত অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয়েছিল ১৫,৭৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৭,২৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ৪,০৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১,৯৪৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। মূলত এই ৩ ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মাসে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ১১,৪৯০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৬,১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ১,৪৯৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ১,৪২৮ কোটি ৮ লাখ টাকার। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৩৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলেন, অনিয়ম আর কারসাজির কারণে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যও তেমন ভালো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে চলছে বিনিয়োগ মন্দা। ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েই আমানতে সুদহার কমিয়েছে। অন্যদিকে এখন সঞ্চয়পত্রে সুদহার ব্যাংকের চেয়ে বেশি। যার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের ভার কমাতে গত বছরের ২৩শে মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার প্রায় ২% করে কমায় সরকার। ২৩শে মের আগ পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনলে ১৩.৪৫ ও ১৩.২৬% হারে সুদ পাওয়া যেত। সুদের হার কমানোর পর এখন কেউ ৫ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনলে ১১.৫২% হারে সুদ পাচ্ছেন। আর ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.৭৬% হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২.৫৯% থেকে কমিয়ে সুদহার ঠিক করা হয়েছে ১১.৪%। অন্যদিকে ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সুদহার ১৩.২৪% থেকে কমিয়ে ১১.২৮% এবং ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩.১৯% থেকে কমিয়ে ১১.২৮% করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হওয়ায় গত ৬ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার কোনো ঋণ নেয়নি, বরং পরিশোধ করেছে ৩,৫৭৬ কোটি টাকা। এতে সরকারে নিট ঋণের স্থিতি কমে ১ লাখ ১,৯০৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৫,৪৮১ কোটি টাকা।