অকৃষি জমিতে ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বী আমতলীর নারীরা

সিডর-আইলার আঘাতে লবণাক্ত হয়েছিল যে জমি সে জমিকে কৃষি উপযোগী করে তুলেছেন গ্রামীণ নারীরা। বাড়ির আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা অকৃষি জমি তাদের হাতের ছোঁয়ায় সবজি ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। বরগুনার আমতলী উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের নাজমা বেগম বেগুন ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছিলেন। বাড়ির পাশে সামান্য জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে।

নাজমা বেগম বলেন, সিডর-আইলার কারণে আমাদের দুমুঠো ভাতও জুটত না। বাড়ির আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা এক টুকরো জমিকে কাজে লাগিয়ে যে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরানো সম্ভব এমন ভাবনাও ছিল না। অক্সফামের সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা এনএসএস’র রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় তা সম্ভব হয়েছে। ওই জমি এখন আমাদের ফেলনা নয়। সেখানে মৌসুমি ফসল লাগাই। পরিবারের সদস্যদের সবজির চাহিদা মেটানোর পরও বিক্রি করে দুটো পয়সা রোজগার করি।

আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের রুনা বাড়ির পাশের জমিতে পালংশাক, লালশাক লাগিয়েছেন। জমি নিড়ানো, আগাছা পরিষ্কার, পানি দেয়া ইত্যাদি কাজগুলো তিনিই করেন।

রুনার বললেন, যে জমিতে কিছুই হতো না এখন সঠিক পরিচর্যা করায় পালংশাক, লালশাক, বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করছি। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মিটিয়েও বাজারে বিক্রি করছি। এতে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছি। এখন মনে হচ্ছে, একটু চেষ্টা আর পরিশ্রম করলে সত্যিই ভাগ্যের চাকা ঘুরানো সম্ভব।

নাজমা, রুনার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের রাহিমা, ফাতেমা, সুফিয়া, শাহনুর, শিউলী, বিউটি. শিল্পীসহ আরও অনেকে এখন কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। তারা নিজেরাই গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাড়ির আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা জমিতে আবাদ করছেন বিভিন্ন কৃষি পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে- লালশাক, পালংশাক, বরবটি, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ডাঁটাশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।

এনএসএস’র রিকল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী (পিসি) কৃষিবিদ জিএম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, নাজমা, রুনার মতো অন্যরাও তাদের গ্রামকে নিয়ে ভাবেন। কোনো জমিই যেন পড়ে না থাকে এ জন্য তারা একই সঙ্গে একাধিক সবজির চাষ করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম বলেন, আমরা এলাকার নারীদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ধারণা দিয়েছি। সেটাকে পুঁজি করেই তারা এগুচ্ছেন, সফলও হয়েছেন। শুধু তারিকাটা নয়, উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে ২৭টি সিবিও (গণসংগঠনের) মাধ্যমে অক্সফামের সহযোগিতায় ৩০০ পরিবার সবজি চাষ করছে। আর এ সবজি চাষের মাধ্যমে ২ হাজার মানুষ নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে সবজি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।