রফতানির নতুন নতুন খাতে নগদ সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে

রফতানি উৎসাহিত করতে নতুন নতুন খাতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেবে সরকার। বর্তমানে ১৪ পণ্যে নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ১০০ টাকার রফতানি আয়ের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত রফতানিকারকদের সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া রফতানি বহুমুখীকরণে ২৮ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে নগদ সহায়তা দেয়া হবে। রূপকল্প-২১ অনুযায়ী ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নেই এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের রফতানি আয়কে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর রফতানিমুখী বিভিন্ন পণ্যের রফতানি আয়ের বিপরীতে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেয়া হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শতভাগ হালাল গোশত, আলু ও শাকসবজি, ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য। এছাড়া হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে হাতে তৈরি পণ্য রফতানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেয়া হবে।

এদিকে, রফতানিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় রাখা রয়েছে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, সফটওয়্যার আইসিটি পণ্য, ওষুধ, জাহাজ ও সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার, জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, এ্যাগ্রো-প্রোডাক্টস পণ্য, ফার্নিচার, হোম টেক্সটাইল, হোম ফার্নিশিং এবং লাগেজ। বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতের মধ্যে রয়েছে- বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ানিং পণ্য, মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, পাঁপড়, প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং, অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি, পেপার ও পেপার প্রোডাক্টস, রাবার, রেশম সামগ্রী, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গিসহ তাঁত শিল্প ও নারিকেলের ছোবড়া। এছাড়া বিশেষ উন্নয়নমূলক সেবা খাতে-পর্যটন এবং আর্কিটেকচার কনসালটেন্সি সার্ভিস খাত রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমান বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য রফতানির বিপরীতে ৩ শতাংশ, হাড়ের গুঁড়া রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ, হাল্কা প্রকৌশল রফতানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যদ্রব্যাদি রফতানির বিপরীতে সাড়ে ১২ শতাংশ, জাহাজ রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ, পেট বোতল-ফেক্স রফতানির বিপরীতে ১০ শতাংশ এবং পাটজাত দ্রব্যাদি প্রকারভেদে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে জাহাজীকৃত হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রফতানির বিপরীতে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী নগদ সহায়তা প্রদান করা হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, রূপকল্প-২১ অনুযায়ী ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পণ্য বহুমুখীকরণসহ নগদ সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। কি পরিমাণ সহায়তা বাড়ানো হবে এবং কোন কোন খাতে এ সহায়তা দেয়া হবে তা নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আমদানি-রফতানি নীতিমালায়ও রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। পাশাপাশি দেশের রফতানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণের জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের রফতানি আরও বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, জাহাজ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং ফার্নিচার রফতানির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার এ সকল ক্ষেত্রে রফতানি বৃদ্ধির জন্য রফতানিকারকদের চাহিদা মোতাবেক সকল সহায়তা প্রদান করছে। সরকারের উদ্যোগ ও রফতানি বাজার সম্প্রসারণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয় বলে দাবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকা- সম্প্রসারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের তথ্য-উপাত্তসহ বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের ১৯ বাণিজ্যিক উইংয়ের কাছে দেশভিত্তিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রফতানি বাণিজ্য বাড়ানোর জন্যও তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির যে স্বপ্ন উদ্যোক্তারা বুকে ধারণ করেছেন তা পূরণ হবে নতুন মার্কেট সম্প্রসারণ ও এফটিএ করার মধ্য দিয়েই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা হচ্ছে পোশাক রফতানির প্রচলিত মার্কেট। এই ২৯ মার্কেটের বাইরে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, চিলি, পেরু, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনাসহ রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, চীন, জাপান, কোরিয়া ও ভারত অপ্রচলিত মার্কেটগুলোর মধ্যে অন্যতম। আশার কথা হলো, অপ্রচলিত এসব মার্কেটের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।