ঝিনুক ও মুক্তা চাষ বাণিজ্যিকীকরণে উদ্যোগ

বাংলাদেশে ঝিনুক ও মুক্তা চাষকে বাণিজ্যিকীকরণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ভিয়েতনাম থেকে উন্নত প্রজাতির ২১০ কেজি ৪১৭টা রাজসিক ঝিনুক আমদানির করা হয়েছে। উন্নত প্রজাতির ঝিনুকে উৎপাদন হয় বড় মুক্তা। বর্তমান বাজারে ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার একটি মুক্তার দাম ৫০ মার্কিন ডলার। আর একটি ঝিনুকে মুক্তা হয় ১০ থেকে ১২টি। সে হিসেবে প্রতিটি ঝিনুক থেকে বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ মার্কিন ডলার বা ৪০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এতে খরচ করতে হবে মাত্র ১৫শ থেকে ১৬শ টাকা। এ দেশের মাটি, পানি ও জলবায়ুতে এমন রাজসিক ঝিনুক চাষে সফলতা পেলে রেমিট্যান্সের অন্যতম খাত হবে ঝিনুক। এ কারণে ঝিনুক ও মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও বেকার যুবকরা। নতুন এ শিল্পখাতকে বাণিজ্যিকীকরণ করা গেলে নারী ক্ষমতায়নে এক ধাপ এগিয়ে যাবে, প্রচুর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন, বিশ্বব্যাপী অমূল্য রত্নরাজির ক্ষেত্রে হীরার পরই মুক্তার স্থান। আর ঝিনুক থেকে তৈরি হয় মুক্তা। তাই মুক্তা চাষ এনে দিতে পারে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। সেই সঙ্গে ভাগ্য খুলে যেতে পারে হাজারও বেকার যুবক-যুবতীর। বিশেষ করে এতে গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা ছড়িয়ে আছে। রয়েছে অসংখ্য জলাশয়। এ সমস্ত জলাশয়ে ঝিনুক চাষ করে পাওয়া যাচ্ছে মহামূল্যবান মুক্তা। এ কারণে মুক্তা দেখাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বিশ্বের অনেক দেশে রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম খাত ঝিনুক ও মুক্তা রপ্তানি। মুক্তা চাষকে বাণিজ্যিকীকরণে ছয় বছর ধরে গবেষণা চালাচ্ছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) একদল উদ্যোমী বিজ্ঞানী। এরই মধ্যে তারা তাদের কাজে সাফল্য অর্জন করেছেন।তারা জানিয়েছেন, মুক্তা গবেষণা একটি দীর্ঘমেয়াদি, ধারাবাহিক ও জটিল কার্যক্রম। তবে মুক্তা চাষের জন্য নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তা কৃষক-খামারিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে, মুক্তা আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। বাংলাদেশে শীতকালের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় এবং সারা বছরেই উষ্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় এ দেশ ঝিনুকের দৈহিক বৃদ্ধি ও মুক্তাচাষের অনুকূলে রয়েছে। এমনকি এ দেশের ঝিনুক থেকে সংগৃহীত মুক্তার ‘রং’ বিশ্ব-বাজারে অনন্য।মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান সংবাদকে বলেন, দেশে মুক্তা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পুকুর বা জলাশয়ে মাছ ছাড়াও ঝিনুকে মুক্তা চাষ করে বাড়তি অর্থ আয় করা সম্ভব। ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদনের প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সমপ্রসারণ করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মুক্তা বিদেশে রপ্তানির সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে একজন মুক্তাচাষী বাংলাদেশে মুক্তা চাষারে সাম্ভ্যবতা যাচাই করে। বাংলাদেশে ঝিনুক ও মুক্তা চাষকে বাণিজ্যিকীকরণ করতে শুভেচ্ছা স্বরূপ ২১০ কেজি রাজসিক ঝিনুক দিয়েছে। রাজসিক জাতের এই ঝিনুক ময়মনসিংহের অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) দেয়া হয়েছে। সেখানে এই ঝিনুকে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে নতুন করে আরও ঝিনুক তৈরি করা হবে। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে মুক্তা চাষের উপযোগি করে তোলা হবে। এতে প্রায় বছর দুই সময় লেগে যাবে। তারপর বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য চাষিদের দেয়া হবে। বাংলাদেশের আবহাওয়া মুক্তা চাষের অনুকূল হওয়ায় এদেশেও মুক্তা চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অমূল্য রত্নরাজিতে হীরার পরই মুক্তার স্থান। যা প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। রাজসিক ঝিনুক ও মুক্তার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনেক। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১১-১২ অর্থবছরে একটি ‘কোর’ গবেষণা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এতে ঝিনুকে মেন্টাল টিস্যু ঢুকিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গভীরতার পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয় এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। এতে পাঁচ মাসেই ঝিনুকে দুই থেকে তিন মিলিমিটার আকারের মুক্তা জন্মে, যা ‘রাইস পার্ল’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ছোট পরিসরে কয়েক বছর থেকে মুক্তার চাষ শুরু হলেও চীনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে থেকে এর চাষ হয়ে আসছে। ঝিনুক ও মুক্তা রপ্তানিতে শীর্ষে চীন। এর পরের অবস্থান জাপানের দখলে। এছাড়া ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, স্পেন প্রভৃতি দেশও মুক্তা উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদায় দেশীয় ঝিনুক ও মুক্তা ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়ায় স্থানীয় ও রপ্তানি বাজারে কাঙ্খিত স্থান করে নিতে পারছে না। স্থানীয় চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনও কম।এদিকে গত ১৫ মার্চ এক সরকারি সফরে ভিয়েতনাম সফর করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। সফরকালে দেশটির কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ঝিনুক চাষের প্রযুক্তি ও তাদের দেশে উৎপাদিত উন্নতমানের বড় আকারের ঝিনুক আমদানির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভিয়েতনাম।এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর ভিয়েতনাম সফরসঙ্গী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচলক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সংবাদকে জানান, সফরে ভিয়েতনামের একটি প্রদেশে মিঠাপানিতে কৃষকদের মুক্তা চাষের প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করেন তারা। ভিয়েতনামে অনেক বড় আকৃতির (১০০০ গ্রাম) ঝিনুক চাষ হয়। এসব রাজকীয় ঝিনুকের মুক্তাও অনেক বড় আকারের হয়। এগুলো রপ্তানি বাজারমূল্য অনেক বেশি। আমাদের দেশীয় ঝিনুক সর্বোচ্চ ১০০-২০০ গ্রাম এবং তাতে মুক্তাও হয় ক্ষুদ্রাকৃতির। বড় ঝিনুক চাষ দেশের জন্য বয়ে আনতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। একই সঙ্গে সৃষ্টি করতে পারে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। এজন্য ভিয়েতনাম থেকে ২১০ কেজি রাজসিক ঝিনুক আমদানি করা হয়েছে। এখন নতুন বাচ্চা তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। মাত্র ১৫শ থেকে ১৬শ টাকা খরচ করে গ্রামের মহিলারা অবসর সময়ে এই ঝিনুক চাষ করে অনেক উপার্জন করতে পারবে। এতে নারীদের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সাবলম্বি হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, মাটি ও পানি ঝিনুকে মুক্তা জন্মানোর জন্য যথেষ্ট অনুকূল হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে ঝিনুক চাষ তেমন ব্যাপকতা লাভ করেনি। সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঝিনুক ও মুক্তাচাষ উন্নয়ন বিষয়ক একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ১২ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএফআরআই। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তা চাষ বিষয়ক উদ্ভাবিত প্রযুক্তির আলোকে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।বিএফআরআইয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকল্পের অর্থায়নে গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুক চিহ্নিত করার জন্য দেশব্যাপী জরিপ চালানো হয়। মুক্তা উৎপাদনের জন্য ঝিনুকের দেহে অস্ত্রোপচার করার পর ঝিনুকের বেঁচে থাকার হার ৭৬ ভাগ এবং মুক্তা তৈরির হার ৮২ ভাগ। গবেষণার মাধ্যমে এখন একটি ঝিনুক থেকে সর্বোচ্চ ১২টি মুক্তা তৈরি করা যাচ্ছে। ছয় মাসে সর্বোচ্চ ৫ মি.মি. এবং গড়ে ৩ মি.মি. আকারে মুক্তা পাওয়া গেছে। এছাড়া ভালো মুক্তা চাষের জন্য পুকুরের মাটির স্তরবিন্যাস প্রয়োজন। স্তর যত সুবিন্যস্ত হবে, মুক্তা ততো ভালো হবে। এ জন্য ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে। জুন-জুলাই মাসে মুক্তা আহরণ করা হয়। বাংলাদেশে মুক্তা উৎপাদনকারী চার ধরনের ঝিনুক পাওয়া যায়- ল্যামেলিডেন্স মার্জিনালিস, ল্যামেলিডেন্স করিয়েনাস, ল্যামেলিডেন্স প্যানচ্যুগ্যাজিনিস, ল্যামেলিডেন্স জেনকিনসিনিয়াস। এর মধ্যে ল্যামেলিডেন্স মার্জিনালিস ও ল্যামেলিডেন্স করিয়েনাস ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদন হার বেশি। এ পর্যন্ত কমলা, গোলাপি, সাদা, ছাই- এই চার রংয়ের এবং গোল, রাইস ও অাঁকাবাঁকা- এই তিন আকারের মুক্তা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে “ইমেজ পাল” মুক্তা তৈরিতে। গত ৮ মাসে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিগ্রাম ইমেজ মুক্তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ ও ফুলবাড়ীয়ায় প্রদর্শনী খামারে ঝিনুকে মুক্তা চাষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫০০ জন আগ্রহী নারী ও পুরুষকে মুক্তাচাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তরুণীরা ঝিনুক অপারেশনে বেশি দক্ষ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের নোনা পানিতে ৩০০ প্রজাতির এবং মিঠাপানিতে ২৭ প্রজাতির ঝিনুক রয়েছে। এখানে ৫ ধরনের ঝিনুকে মুক্তা হয়। দেশের মহেশখালী ছিল পিঙ্ক পার্ল বা গোলাপি মুক্তার জন্য জগদ্বিখ্যাত। বঙ্গপোসাগরের তীরবর্তী এলাকাসহ দেশের প্রায় সব জায়গাতেই মুক্তা বহনকারী ঝিনুক পাওয়া যায়। বৃহত্তর ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া, ফরিদপুর, পাবনা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে বেশি পাওয়া যায় এসব ঝিনুক। বর্তমানে বাংলাদেশে এক বিঘা পুকুরে ২ হাজার ঝিনুকে মুক্তা চাষ হচ্ছে। দেশের বাইরে চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, কানাডা, স্পেন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে ‘প্রণোদিত’ উপায়ে মুক্তা উৎপাদন এবং চাষ করা হচ্ছে। এতে চীন ও জাপান ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করেছে।উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ‘ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা’ মুক্তা আহরণ বিষয়ে প্রথম জরিপ চালায়। এতে দেখা যায় দেশে মুক্তা সংগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮টি। এসব কেন্দ্রে প্রতি বছর ১২ হাজার ৬২৯ তোলা মুক্তা সংগৃহীত হতো। ১৯৭৪-৭৯ সালে চাঁদপুরের স্বাদুপানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে প্রথম মুক্তা চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময়ে ৬০০ ঝিনুকে কাচের টুকরো ঢুকিয়ে মুক্তা উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ৩২ শতাংশ ঝিনুকে অসমতল মুক্তা জন্মে। পরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থার (ফাও) সহায়তায় ১৯৮৩-১৯৮৪ সালে মুক্তা চাষের ওপর আরও গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায় ২৭.৩ শতাংশ ঝিনুকে ছোট মুক্তা এবং মাত্র ১৫.১ শতাংশ ঝিনুকে পূর্ণ মুক্তা জন্মে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এক সমীক্ষা চালান। সমীক্ষায় বাংলাদেশে মুক্তা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে। বিএফআরআই ১৯৯৯-২০০১ সালে ময়মনসিংহে মিঠাপানি কেন্দ্রে ও কক্সবাজারে সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে যৌথভাবে গবেষণা চালায়। ময়মনসিংহে তিন মিলিমিটার আকারের মুক্তা তৈরিতে সময় লেগেছিল দেড় থেকে দুই বছর।