মীরসরাইয়ে কচু চাষে সাফল্য

সবজি ভাণ্ডারখ্যাত চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের অনেক গ্রামে কচু আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত কৃষক। উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের একটি ও হাইতকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নামই কচুয়া। এই কচুয়া গ্রামের কয়েক শত পরিবার এই শ্রাবণ-ভাদ্র মাসের বর্ষার দিনে ব্যস্ত থাকে শুধু বড় বড় বিশাল কচু ও কচু থেকে প্রাপ্ত সবজি বাজারজাত করণে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একেক কচু চাষির ক্ষেত থেকে হাজার হাজার কচু তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা। কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটুর উপরের পানিতে দাঁড়িয়ে জমি থেকে বড় বড় কচুগুলো কেটে, উপরের কিছু পাতা ছেঁটে বিশালাকার কচু স্তূপাকারে চলে যাচ্ছে ৫০-১০০টির আঁটিতে। সেখান থেকে সিএনজি বা ভ্যানে করে মহাসড়কের হাটে। সেখান থেকে পাইকারদের ট্রাকে চড়ে ঢাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির হোটেল ও রেস্তরাঁয়। কচুয়া গ্রামের পাশাপাশি উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় অনেক গ্রামে এখন কচু চাষ করছেন কৃষকরা। মীরসরাইয়ের আবাদকৃত কচুর যথেষ্ট সুনাম আছে। তাই এখানকার কচু বাজারে সমাদৃত বেশ। মীরসরাই-মলিয়াইশ রুটের সড়কের পাশে নাজিরপাড়ায় পোদ্দার তালুক গ্রামের আবুল হোসেন ৪৫ শতক জমিতে ১৩ হাজার কচুর একাংশের উত্তোলন করছিলেন শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম ও চান মিয়াসহ অনেকে। বৃদ্ধ চান মিয়া বলেন, প্রতিটি কচু পাইকারি ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। মোট কচু বিক্রি হবে এবার প্রায় চার পাঁচ লাখ টাকার মতো। তবে অর্ধেক চলে যাবে চাষাবাদ, শ্রমিক ও যাতায়াত ব্যয়ে। কচু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত হোসাইন মিয়া বলেন, ‘এখন শুধু এই গ্রামে নয়, আশপাশের সব গ্রামেই অনেক জাগয়া কচুর চাষ হচ্ছে।’ প্রতিদিন দিনভর কচু পরিষ্কার করে বেঁধে নিয়ে সবাই পরদিন সকালে হাটে নিয়ে যান পাইকারদের কাছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, মীরসরাইয়ের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি আমরা লতিরাজ নামের একটি কচু কৃষকদের আবাদের পরামর্শ দিয়েছি। যার সুফল এখন সংযোজন হচ্ছে।