ওভেন গার্মেন্টস পণ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে

২০১৫-১৬ অর্থবছরে নিটওয়্যার পণ্য এবং ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৮০৯ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে নিটওয়্যার এবং ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি আয় যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৪২ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আলোচ্য খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩২৬ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময়ের মধ্যে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে এই খাতে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩০৬ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আলোচ্য খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪১০ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় এই খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে।

পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত

২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। তবে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। ইপিবির জুলাই মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আলোচ্য সময় আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে : ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এই সময়ে আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে এর আগের অর্থবছরের তুলনাই কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চা রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কম।

চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়েছে

২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে রপ্তানি আয়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। আগের বছরের তুলনায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়লেও সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে এই খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১১৩ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২১ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ কম।