ই-টেন্ডারিংয়ে আসছে উচ্চ ক্ষমতার ডাটা সেন্টার

সরকারি সব কেনাকাটায় (দরপত্র) ই-টেন্ডারিং চালু করতে কেনা হচ্ছে উচ্চক্ষমতার ডাটা সেন্টার। এটি কিনতে আরো এক কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা। এর অংশ হিসেবে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান রাজেশ্বরী এস পারালকার। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক ফারুক হোসেনসহ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২ (পিপিআর-২) প্রকল্পের আওতায় বাড়তি এই অর্থ খরচ হবে। অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে একটি নতুন স্টেট অব-দ্য-আর্ট ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। এটির ধারণক্ষমতা হবে ২০০ টেরাবাইট। এ ছাড়া একটি মিরর সাইট ডাটা সেন্টার স্থাপিত হবে। মিরর সাইটটির নিরাপত্তাব্যবস্থা অধিক উন্নত হবে। বর্তমান ডাটা সেন্টারের চেয়ে ১৮০ গুণ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে নতুন ডাটা সেন্টার। যেখানে প্রায় ৮৬ লাখ টেন্ডার সংরক্ষণ করা যাবে এবং তিন লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত দরদাতার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে।

চুক্তি শেষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কেনাকাটায় ই- টেন্ডারিংয়ের জন্য বিশ্বব্যাংকের এ সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঋণের অর্থ ব্যবহার করে ডাটা সেন্টার কেনার মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) কার্যক্রমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পাবে। অর্থাৎ সরকারি সব দপ্তর ইজিপির আওতায় আসবে।

বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান রাজেশ্বরী পারালকার বলেন, বাংলাদেশ ই-জিপির ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এরই মধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ই-জিপি বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে। তিনি জানান, ২০০ টেরাবাইটের উচ্চক্ষমতার ডাটা সেন্টার কেনা হলে সরকারি ক্রয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রিক প্রকিউরমেন্ট বা ইজিপি শুরু হয় এবং চারটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটায় ই-টেন্ডারিং শুরু হয়। চারটি সংস্থা হলো—সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সরকারি ক্রয়ে যেমন স্বচ্ছতা এসেছে, তেমনি টেন্ডার প্রক্রিয়াকরণের সময় ২০১২ সালের ৫১ দিন থেকে ২০১৫ সালে ২৯ দিনে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সিপিটিইউর কর্মকর্তারা। বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করবে। যার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন ক্রয়কারি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা-কর্মচারী তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের এ ঋণের সুদহার ০.৭৫ শতাংশ। ছয় বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে বাংলাদেশ এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2016/07/26/385552#sthash.MspKZMUu.dpuf