শেকৃবির ই-লাইব্রেরি চাহিদা মেটাবে গবেষক-শিক্ষার্থীদের

শিক্ষা ও গবেষণার কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) চালু হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মোবাইল সেট (অ্যান্ড্রয়েড) অ্যাপ্লিকেশন-ভিত্তিক ই-লাইব্রেরি। এতে শেকৃবি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে নানা ধরনের বই পড়তে পারবেন। ফলে একদিকে যেমন তারা সহজে নানা ধরনের পছন্দের বই হাতের নাগালে পাবেন, অন্যদিকে বই কেনার অর্থও সাশ্রয় হবে।
জানা যায়, দেশের কৃষিশিক্ষার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে ১৯৩৮ সালে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রার শুরুতেই এ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে এটি অত্যাধুনিক ই-লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে কৃষি ও আনুষঙ্গিক অন্য যে কোনো মূল্যের বই বিনামূল্যে সহজে পড়তে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এর জন্য অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে িি.িংধঁষরনৎধৎু.বফঁ.নফ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এতে কৃষিসম্পর্কিত ও অন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় বই, জার্নাল, আর্টিকেল পড়তে পারবেন শিক্ষার্থীরা। যেসব বই, জার্নাল ও আর্টিকেল ইন্টারনেট থেকে টাকা পরিশোধ করে পড়তে হয়, এমন বইও অত্যাধুনিক এ ই-লাইব্রেরি থেকে বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক এ লাইব্রেরি থেকে বাংলাদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীও চাহিদাসম্পন্ন যে কোনো বই পড়তে পাড়বেন। এর জন্য শিক্ষার্থীদের ষরনৎধৎরধহ@ংধঁ.বফঁ.নফ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শেকৃবি লাইব্রেরিয়ান বরাবর ই-মেইল প্রেরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই তাদের প্রয়োজনীয় বইটি পেয়ে যাবেন। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ লাইব্রেরি থেকে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতজনকে বই প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো এ লাইব্রেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাউ এল পিকেবি হার্বেস্টার সিস্টেম। যেটি ব্যবহার করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর যে কোনো প্রতিষ্ঠানের থিসিস পেপারের মূল কপি পাবে। তাছাড়া এ ই-লাইব্রেরিতে স্থাপন করা হয়েছে অটোমেটেড বুক ড্রপার সিস্টেম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অ্যানালগ যুগের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে বই জমা না দিয়ে অটোমেটেড মেশিনে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে বই জমা দিতে পারবেন। বই চুরি রোধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ লাইব্রেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টেফিকেশন সিস্টেম।
অত্যাধুনিক এ লাইব্রেরি সম্পর্কে শেকৃবি লাইব্রেরিয়ান ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল এ লাইব্রেরিতে ১০ হাজার ই-বই রয়েছে। রয়েছে ৩২ হাজার বইয়ের হার্ড কপি। এতে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ঞঊঊঅখ (ঞযব ঊংবহঃরধষ ঊষবপঃৎড়হরপ অমৎরপঁষঃঁৎধষ খরনৎধৎু) নামের একটি সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৫ লাখ আর্টিকেল শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবেন। তাছাড়া এতে ব্যবহার করা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম জার্নাল আর্কাইভ (ঔংঃড়ৎ) জেস্টর। এ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার জার্নাল পড়তে পারবেন। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ই-বুকের সোর্স ক্রয় করা রয়েছে, যা থেকে শিক্ষার্থীরা চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বই পাবেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অল্প সময়ে বিনামূল্যে যে কোনো বই পাবেন। ফলে গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও বেড়ে যাবে।