যশোরে উৎপাদিত হচ্ছে ৬৫ শতাংশ পোনা মাছ

ঐতিহ্যের যশোরে দেশের চাহিদার ৬৫ শতাংশ পোনা মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। যশোরের সেই পোনা মাছ বড় হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার বিল-খাল-বাঁওড়ে। শুধু তা-ই নয়, এ জেলার মাছের চাহিদা ৬০ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে ২ লক্ষাধিক মেট্রিক টন। দেড় লাখ টন মাছ চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায়। এজন্য মাছ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে যশোর। আর এ থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন জেলার ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ মাছ চাষি, হ্যাচারি মালিক ও মৎস্যজীবী। যার মধ্যে সদর উপজেলার ওবায়দুর রহমান ও ঝিকরগাছার হাফিজুর রহমান নামে দুই মৎস্য চাষি এবার মৎস্য সপ্তাহে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।
যশোর মৎস্য বিভাগের সূত্র মতে, জেলায় ৬০ হাজার ৯০৭ হেক্টর বদ্ধ পুকুর, বাঁওড় ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ হয়ে থাকে। এ জলাশয়ে সব মিলিয়ে এখন বছরে ২ লাখ ৫ হাজার ৮১০ দশমিক ৩১ মেট্রিক টন মাছের উৎপাদন হচ্ছে। জেলায় এখন প্রতি হেক্টরে সবচেয়ে বেশি হারে কৈ মাছ উৎপাদন হচ্ছে। কৈ মাছের প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ১৮ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন আর সর্বনিম্ন বাগদা চিংড়ির শূন্য দশমিক ২০০ মেট্রিক টন। এছাড়া প্রতি হেক্টরে রুই জাতীয় মাছ ৩ দশমিক ৯৭ মেট্রিক টন, পাঙ্গাশ ১৭ দশমিক ১৪ মেট্রিক টন, তেলাপিয়া ১৪ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন, মাগুর ৫ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন, শিং মাছ ৪ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন ও গালদা চিংড়ি শূন্য দশমিক ৫৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়ে থাকে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, যশোর শুধু মাছের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এ জেলায় উৎপাদিত প্রায় দেড় লাখ টন উদ্বৃত্ত মাছ সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। মাছের চাহিদা পূরণে যশোর জেলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষি, খামার মালিক ও মৎস্যজীবীর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাছ চাষে নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। মাছের খাদ্য উপকরণের দাম বেশি, মাছ বিক্রয় কেন্দ্র নেই। চাষিরা রাস্তার ওপর মাছের হাট বসায়। এতে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। মাছ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি ছিল চাষিদের। চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চাঁচড়ায় মাছ বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ ফিরোজ খান জানান, মৎস্য চাষি-খামারিদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে বড় মৎস্য খাতে উচ্চ হারে বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। আমরা কৃষির জন্য নির্ধারিত হারে বিদ্যুৎ বিল নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। ভূমি করও নেয়া হচ্ছে বাণিজ্যিক হারে। এছাড়া যশোরের মৎস্য গবেষণা সাব-স্টেশনটি এ সেক্টরে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এখানে পূর্ণাঙ্গ স্টেশন দরকার। আর মানসম্মত খাবার ও দাম নিয়েও মাছ চাষিরা রয়েছেন বিপাকে। গুণগত মান নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হলেও মান নির্ণয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় না।
বৃহত্তর যশোর জেলা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, যশোরের চাঁচড়া এলাকায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মৎস্য বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া চার জেলায় আরও ছয়টি বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিক্রয় কেন্দ্রগুলো তৈরি হলে চাষিরা সহজে ও সুন্দর পরিবেশে মাছ বিক্রি করতে পারবেন।