পাহাড়ে শিশুদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে শিখন স্কুল

কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে শিখন স্কুল। শিক্ষাবঞ্চিত শিশু ও তাদের ঝরে পড়া রোধে নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২২টি শিখন স্কুল ও ১০টি শিখন কেন্দ্র। এসব স্কুলের শিশুরা কেউ ডাক্তার, কেউবা আদর্শ শিক্ষক, আবার কেউ বড় সরকারি অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা কোডেক এসব স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে।
কোডেক সূত্র মতে, এ কর্মসূচির আওতায় দুই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে শিখন স্কুল ও শিখন কেন্দ্র। শিখন স্কুলে একটি নির্দিষ্ট কারিকুলাম অনুযায়ী লেখাপড়া হচ্ছে। শিখন কেন্দ্রে রয়েছে ৫ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে ৩ বছর মেয়াদি প্রারম্ভিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। কক্সবাজারে ১০০টি শিখন স্কুল ও ৫৫টি শিখন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, সোনাইছড়ি, ঘুমধুম ও বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ২২টি শিখন স্কুল ও ১০টি শিখন কেন্দ্র চালু রয়েছে। এতে নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় সাড়ে ৭০০ শিশু নতুন করে শিক্ষার আলো পেয়েছেন। শিখন স্কুলের শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঠা-াঝিরি, মাঝের চরা ও বড়ছনখোলা। এসব গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। গ্রামের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ করতে যেতে হতো ৪ কিলোমিটার দূরে। হাঁটতে হতো দুর্গম পাহাড়ি পথ। এতে নানা কারণে ও আর্থিক অনটনে লেখাপড়া বন্ধ করে কাজে যোগ দিয়েছিল অনেক শিশু। এখন তারা বাড়ির পাশেই শিখন স্কুলে পড়ালেখা করছে।
বড়ছনখোলা শিখন স্কুলের সভাপতি এনামুল হক বলেন, এখানে শিশুদের আনন্দের মাধ্যমে লেখাপড়া শেখানো হয়। পাঠদান প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিশেষ কৌশল। পাশাপাশি এরা সংগীত, সাহিত্য, ছবি আঁকা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে বহুমুখী জ্ঞান অর্জন করে। শিশুদের স্কুলে আসতে উৎসাহিত করা হয়। তবে স্কুলঘর স্থানীয়দের অর্থে তৈরি হয়। স্কুলের খাতাপত্র, বই, কলমসহ প্রয়োজনী জিনিসপত্র কোডেক থেকে দেয়া হয়। এতে প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধ হচ্ছে। অপর এক স্কুল সভাপতি মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কৃমিনাশক ট্যাবলেট ও আইরন ট্যাবলেট খাওনোর কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। এতে অভিভাবকরা আগ্রহী হচ্ছেন এবং শিশুরা পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হচ্ছে।
কোডেকের কক্সবাজার সদরের কো-অর্ডিনেটর মোঃ আজিজুল হক বলেন, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবানে শিক্ষা ও সাক্ষরতার হার কম। এ বিবেচনায় এ অঞ্চলের শিশুদের স্কুলমুখী করতে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আগে যেসব শিশু স্কুলে যেত না, তারা এখন স্কুলে এসে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদ বলেন, কোডেক কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকায় ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করতে অনেক ভূমিকা পালন করছে। আমরাও তাদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করছি। কারণ বর্তমান সরকার শিক্ষাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে।