হাঁস পালনে ভাগ্য বদল

গোপালগঞ্জের ‘বিল গ্রাম’ খ্যাত কাজুলিয়া গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে এসব পরিবার হাঁস পালন শুরু করে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁস পালন ও তা বিক্রি করে সংসার চলছে।
এদিকে হাঁস পালনে উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রতি সদর উপজেলার পিঠাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কাজুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় বিআরডিবি ব্যতিক্রমী ‘হাঁস সমাবেশের’ আয়োজন করে। এ হাঁস সমাবেশে এলাকার ৩০ পরিবার কয়েক হাজার হাঁস নিয়ে জড়ো হয় এ সমাবেশে। সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, গোপালগঞ্জ বিআরডিবির উপ-পরিচালক জয়প্রকাশ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিল এলাকা কাজুলিয়া ইউনিয়নে প্রতিবছরই অনাবাদি থেকে যায় শত শত একর জমি। বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকার জমি অনাবাদি থাকায় এলাকার দরিদ্র কৃষকরা দিন দিন আরও দরিদ্র হচ্ছিলেন, বেড়ে
যাচ্ছিল বেকারত্বের সংখ্যা। নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে বিকল্প কাজেরও সন্ধান করছিলেন তারা।
‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায়’ ঋণ নিয়ে তারা হাঁস পালন শুরু করেন। বর্তমানে কাজুলিয়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার বাণিজ্যিক ভিক্তিতে হাঁস পালন করছেন। এ প্রকল্প থেকে শতকরা মাত্র আট টাকা সুদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন এসব পরিবার। সে টাকা দিয়ে শুরু করেন হাঁস পালন। সে থেকে বেকারত্ব আর দারিদ্র্য দূর করতে লেগে পড়েন তারা, হয়েছেন সফলও। প্রতিমাসে হাঁস বিক্রি করে আয় করছেন ১০-১২ হাজার টাকা।
পিঠাবাড়ি গ্রামের বিজলী বালা জানান, হাঁস বিক্রি করে একদিকে যেমন সংসার চালাচ্ছি, অন্যদিকে স্বামীর হাতেও কিছু টাকা তুলে দিতে পারছি।
একই গ্রামের উজ্জ্বল কুমার বালা জানান, ঋণ নিয়ে আর নিজের কিছু টাকা দিয়ে হাঁস পালন শুরু করি। এখন হাঁসে ডিম দেওয়া শুরু করেছে। হাঁস আর ডিম বিক্রি করে ভালোই আয় হচ্ছে, যা দিয়ে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি।
স্মৃতি বিশ্বাস ও সীমা বিশ্বাস জানান, স্বামীর কোনো কাজ না থাকায় অভাবের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হতো। এখন আর অভাব নেই। হাঁস পালন আমাদের ভাগ্য বদল করে দিয়েছে।
নাজমা বেগম জানান, হাঁস পালন করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। ?ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে সুদ মওকুফের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান চৌধুরী জানান, হাঁস খামারিদের উত্সাহিত করতেই মূলত এই হাঁস সমাবেশের মতো একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বেকার যুবকরা উত্সাহিত হবেন।
গোপালগঞ্জ বিআরডিবির উপ-পরিচালক জয় প্রকাশ জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রত্যেক সমিতিতে ৬০ জন করে সদস্য দুশ’ টাকা করে সঞ্চয় করে থাকেন। সঞ্চয়, উত্সাহ বোনাস এবং ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল মিলে তাদের জমানো ৫৪ লাখ টাকা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যরা তাদের চাহিদামতো ঋণ নিয়ে থাকেন। অনাবাদি ভূমির অভিশাপ কাটিয়ে কাজুলিয়া ইউনিয়নের লোকজন হাঁস চাষ করে আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
হাঁস সমাবেশের মাধ্যমে হাঁস চাষিরা আরও উত্সাহিত হবেন বলে মনে করে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, যদি কেউ হাঁস পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে চান তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে হাঁস পালনকারীদের ঋণসহ বেশি করে সহায়তা করা হবে বলেও তিনি জানান।