দেশেও ফলছে রাম্বুটান

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বেড়াতে গিয়ে শহরতলির বিচ্ছিন্ন গাছপালার ফাঁকে ফলভর্তি রাম্বুটানের গাছ দেখি প্রথম। শহরপ্রান্তে কিন্তু ইচ্ছে করে যাইনি। শহরে ঘুরতে ঘুরতে পথ হারিয়েই যেতে বাধ্য হয়েছিলাম সেখানে। জায়গাটির নাম এখন আর মনে নেই। সেদিন গাছগুলোকে নিতান্তই বুনো কিছু ভেবেছিলাম। কারণ তখনও রাম্বুটান চিনি না। তবে ফলটির সঙ্গে অ্যালমান্ডা বা ঘণ্টালতা ফলের সাদৃশ্য রয়েছে। পরে হংকং বেড়াতে গিয়ে বন্ধুর বাসায় ফলটি খাওয়ার সুযোগ হয়। বাইরের আবরণ দেখে বোঝার উপায় নেই, ফলটি খেতে এতটা সুস্বাদু! তখন অবশ্য বুঝতে পেরেছি মালয়েশিয়ার সেই ফলটি আসলে বুনো কিছু ছিল না।

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন কিংবা থাইল্যান্ডের পথের ধারে গাছে গাছে রাম্বুটান ঝুলতে দেখলে অবশ্য বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। সেখানে ফলটি বাণিজ্যিকভাবেই চাষ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে যদি এমন একটি দৃশ্য চোখে পড়ে তা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। আর এ চমকপ্রদ দৃশ্যটি দেখতে হলে আমাদের যেতে হবে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল গবেষণা কেন্দ্রে। বীজ থেকে তৈরি চারাগুলো এখানে প্রথম লাগানো হয় ১৯৯৮ সালের দিকে। প্রায় সাত বছর পর ২০০৪ সালে গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করে। আকৃতি ও স্বাদের দিক থেকেও ফলগুলো সমমানের। তবে দেশের কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে আরও কিছু গাছ চোখে পড়ে। সাভার হটার্স নার্সারির একটি গাছেও কয়েক বছর ধরে ফল ধরছে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাগানো একটি গাছেও রাম্বুটান ফল ধরে বলে জেনেছি। ঢাকার প্রায় সব নার্সারিতেই এখন পাওয়া যাচ্ছে চারা।

রাম্বুটানের (ঘবঢ়যবষরঁস ষধঢ়ঢ়ধপবঁস) আদি আবাস মালয়েশিয়া ও সুমাত্রা দ্বীপপুঞ্জ হলেও বর্তমানে অনেক দেশেই সহজলভ্য। থাইল্যান্ডে এ ফলটিকে ফলের রানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে নাম নু-ফ্রুয়ান। গাছ মাঝারি আকৃতির, ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা ও ডালপালার বিন্যাস অনেকটা লিচু গাছের মতো। ছড়ানো মঞ্জরিদঅোসে ফাল্গুন-চৈত্রে। ফল পাকে গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে বর্ষার প্রথমভাগ পর্যন্ত। কাঁচা অবস্থায় ফলের রঙ সবুজ, পাকলে লালচে রঙের হয়। দেখতে ডিম্বাকৃতি বা গোলাকৃতির, গা বিভিন্ন আকৃতির নরম কাঁটায় মোড়ানো। খোসা ছাড়ালেই লিচুর মতো সুমিষ্ট ও সুস্বাদু শাঁস পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের আবহাওয়ায় রাম্বুটান অত্যন্ত জুৎসই হওয়ায় বছরের কয়েক মাস আমরা লিচু জাতীয় এই ফলগুলো খেতে পারি। কারণ দেশি লিচুর পর আসে লংগ্যান বা কাঠলিচু, তারপর রাম্বুটান।