বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক নেবে সিয়েরা লিওন

ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আফ্রিকা। এ অঞ্চলের বিশাল বাজার ধরতে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারও। গতকাল বাংলাদেশ সফররত সিয়েরালিওনের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা। সভায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সিয়েরালিওনের প্রতিনিধিদল।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি মনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে সিয়েরা লিওন থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ডিরেক্টর প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আবদুল কামারা। সভায় সিয়েরা লিওন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চীনের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি নিট পণ্য আমদানি করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সহসভাপতি (অর্থ) জি এম ফারুক ও পরিচালকবৃন্দ। অন্যদিকে সিয়েরালিওনের পক্ষে অনারারি কনসাল জেনারেল ওনু জায়গিরদার, হেড অব ফিন্যানশিয়াল সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (সেন্ট্রাল ব্যাংক অব সিয়েরা লিওন) এস্থার জনসন ও সিয়েরালিওনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (গবেষণা বিভাগ) মোরলাই বাংগুরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও সিয়েরালিওনের মধ্যকার বাণিজ্য হার কম হলেও বর্তমানে দুই পক্ষের দিক থেকেই ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০০২ সালে সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে সম্মানমূলক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তা ছাড়া শান্তি মিশনের সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের নামে সেই দেশে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিকেএমইএ ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিকেএমইএর প্রতিনিধিদলকে তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানায় সিয়েরালিওনের প্রতিনিধিদল। সিয়েরালিওনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (গবেষণা বিভাগ) মোরলাই বাংগুরা মনে করেন, বাংলাদেশের নিট খাতের সম্প্রসারণশীল বাণিজ্য বিস্তৃতির পরিকল্পনায় সিয়েরা লিওন নতুন সম্ভবনাময় দেশ হতে পারে।

বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন নৌবন্দর ব্যবস্থাপনার সুবিধা, কারখানায় অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উত্পাদনব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিয়েরালিওনের প্রতিনিধিরা চীনের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিট পণ্য আমদানি করতে ইচ্ছা পোষণ করেন।

বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, সিয়েরালিওনে নিট পোশাক রপ্তানির জন্য প্রায় চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাজার বিদ্যমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো রয়েছে প্রায় ২৪.১২ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা করা, ব্যাংকিং সুবিধা নিয়মিতকরণ ও শিথিলকরণের জন্য আলোচনা, বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা ইত্যাদি স্বল্প মেয়াদে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণ হবে। এ ছাড়া তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং পদ্ধতি আরো কার্যকর করা এবং সহজ শর্তে দুই দেশের মধ্যকার নিট খাতের পণ্য রপ্তানিকরণের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।