নতুন সাজে সাজবে দক্ষিণ সিটির উনিশ পার্ক

নতুন করে ১৯ টি পার্ককে সাজিয়ে নাগরিকদের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সংস্থাটির আওতাধীন সীমানায় অবস্থিত এসব পার্ককে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে।

প্রতিটি পার্কে থাকবে খাবার পানির ব্যবস্থা। শরীর চর্চা বা হাঁটাচলা শেষে বিশ্রামের পর হালকা খাবারের জন্য পার্কের ভেতরে বা নির্দিষ্ট স্থানে ক্ষুদ্র আকৃতির দোকান বসানর অনুমতি দেয়ারও চিন্তা করছে সংস্থাটি। এছাড়া এসব পার্কে সন্ধ্যার পর যাতায়াতকারিগণ নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য পার্কের ভেতর বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করা হবে। পার্কে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেয়া থাকবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ও সুরক্ষার কথা ভেবে রাত নয়টার পর কাউকে এসব পার্ক ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। সবসময় সংরক্ষিত রাখার জন্য সার্বক্ষণিক গেইট লাগান থাকবে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এসব পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ করার চিন্তা করছে সংস্থাটি। ব্যবহারকারীদের স্বার্থে প্রতিটি পার্কের কয়েকটি স্থানে পার্কের নাম উল্লেখসহ প্রবেশ ও বাহিরের সময়সহ ব্যবহারের নিয়মাবলী লাগান থাকবে।

সরকার ও সংস্থাটির যৌথ অর্থায়নে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ৩০ ভাগ অর্থ ব্যয় করবে সিটি করপোরেশন আর ৭০ ভাগ অর্থ দেবে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা এ ১৯টি পার্ক প্রথমবারের মতো সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। দুই বছর মেয়াদী এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গড়ে প্রতিটি পার্ক নতুন করে সাজাতে ব্যয় হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা। তবে পার্কেও আয়তন বুঝে কমবেশি ব্যয় করা হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকায় বসবাসরত নাগরিকদের শিশু সন্তানদের কথা চিন্তা করে ধূপখোলা মাঠের একটি অংশের বর্তমান মাঠটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ জমিতে একটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন শিশুপার্ক তৈরি করা হবে। জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ব্যয় কম ধরা হলেও নকশা প্রণয়নের পর তা আরো বাড়বে বলে জানা গেছে।

১৯টি পার্ক হচ্ছে- কাওরানবাজারের সার্ক ফোয়ারা সংলগ্ন পান্থকুঞ্জ পার্ক, ফিনিক্স রোডে অবস্থিত দক্ষিণ সিটির সবচেয়ে বড় পার্ক ওসমানী উদ্যান, যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তা পার্ক, ধূপখোলা ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের শরাফতগঞ্জ কমিউনিটি সেন্টার-সংলগ্ন পার্ক, ওয়াটার ওয়ার্কস রোডের বশির উদ্দিন পার্ক, আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার শিশুপার্ক, মতিঝিল পার্ক, ধানমণ্ডি ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন পার্ক, হাজারীবাগের গজমহল পার্ক, বকশীবাজার পার্ক ও রসুলবাগ শিশুপার্ক, গুলিস্তান পার্ক, জিন্দাবাজারের সিরাজউদ্দৌলা পার্ক, জগন্নাথ শাহ রোড পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, মাজেদ সরদার রোডের সিক্কাটুলি পার্ক, ইংলিশ রোডের মালিটোলা পার্ক, বংশাল পুরাতন চৌরাস্তার ত্রিকোণাকৃতি পার্ক।

সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্কগুলোর কৃত্রিম লেক, পুকুর, স্লিপার ও দোলনা সংস্কার করা হবে। খেলার মাঠ থেকে বর্তমানে যত্রতত্র জমানো ময়লা-আবর্জনা সরান হবে। নতুন করে বেশকিছু পশুপাখির মূর্তি বসান হবে এবং দর্শনার্থীদের বসার জায়গা তৈরি করা হবে। পার্কের চারপাশের সীমানা প্রাচীর বর্তমানের তুলনায় আরো মজবুত করা হবে। এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। পার্কের ভেতরে অবস্থিত বর্তমানের সকল পুরান স্থায়ী স্থাপনার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নতুন করে রং করা হবে। প্রয়োজনে আরো বসার বেঞ্চ তৈরি করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, রাজধানীতে বসবাসকারীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ সিটির অন্তর্গত ১৯টি পার্ককে নতুন করে সাজানর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধূপখোলা মাঠের একাংশে পুরান ঢাকার শিশুদের কথা ভেবে আধুনিক একটি শিশুপার্ক তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।