দেশি গরুতে লাভবান সাতক্ষীরার খামারিরা

ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় দেশি জাতের গরু পালন বেড়েছে। এসব গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন খামারিরা। একইভাবে দেশি জাতের গরু উৎপাদনের পাশাপাশি মোটাতাজা করা হচ্ছে এখানকার খামারগুলোতে। খামারের বাইরে পারিবারিকভাবেও দেশি জাতের গরু পালন করা হচ্ছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায়। এতে করে স্থানীয়ভাবে আমিষের চাহিদা মেটানো ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে সাতক্ষীরার দেশি জাতের গরু।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর গ্রামের আনোয়ার এগ্রো-ফার্মের মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, দেশি প্রজাতির বিভিন্ন গরু মোটাতাজা করা হয়ে থাকে। তার খামারে এখন দেশি জাতের ৫০টি গরু রয়েছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেড় থেকে দুই বছর বয়সের দেশি জাতের এঁড়ে গরু সংগ্রহ করে পরিচর্যার মাধ্যেমে তিনি মোটাতাজা করেন। তার খামারে চার থেকে পাঁচ শ্রমিক কাজ করেন সার্বক্ষণিকভাবে। এসব শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খরচ তুলেও বছরে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাভ হয় তার খামার থেকে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর এলাকায় রংধনু এগ্রো-ফার্ম নামে একটি খামারে দেশি জাতের লাল এঁড়ে গরু পালন করা হচ্ছে। মোটাতাজাকরণের পাশাপাশি এ খামারে উৎপাদন করা হচ্ছে দেশি জাতের গরু। প্রায় এক দশক ধরে এ খামারে গরু মোটাতাজা করা ছাড়াও উৎপাদন করা হয়ে থাকে। দেড় থেকে দুই বছর ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার এ খামারে বেড়েছে দেশি জাতের গরু পালন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের গৃহবধূ রেবেকা খাতুন জানান, বসতবাড়িতে দেশি জাতের দুইটি করে এঁড়ে গরু পালন করে প্রতি কোরবানি ঈদে বিক্রি করেন। সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি এ গরু পালন করে বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বাড়তি উপার্জন করেন তিনি। দেশি গরুর চাহিদা বাড়ায় আগামীতে খামার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে তার।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার শশাংক কুমার বলেন, সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় বিভিন্নপর্যায়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় শতাধিক খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে দেশি প্রজাতির গরু মোটাতাজা করার পাশাপাশি উৎপাদন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জেলার বিভিন্ন পরিবারে দুই থেকে তিনটি করে গরু পালন করা হচ্ছে। গরু পালন করে বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা উপার্জন করছে এসব পরিবার।