দেশে মাছের উৎপাদন ৩৬.৩৯% বেড়েছে

দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাঙালির খাবারে মাছের পরিমাণও। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘মৎস্য সপ্তাহ’। মৎস্য সপ্তাহ পালনে এবারের সেøাগান হলোÑ ‘জল আছে যেখানে, মাছ চাষ সেখানে।’
মৎস্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক ০১ লাখ টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে অর্জিতব্য মাছ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭৮ লাখ টন। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬ দশমিক ৮৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এ হিসাবে ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রক্ষেপিত মোট উৎপাদন ৩৮ দশমিক ৪৮ লাখ টন।
শুধু উৎপাদনই নয়, আমিষের চাহিদাও পূরণ হয়েছে। জনপ্রতি দৈনিক ৫৬ গ্রাম মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জনপ্রতি দৈনিক মাছপ্রাপ্তি ৫৪ গ্রামে উন্নীত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করে ৬০ গ্রামে উন্নীত করা হয়েছে।
৭ জুলাই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বিশ্বের মৎস্য সম্পদের ওপর একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতেও বাঙালির খাদ্য তালিকায় মাছের উপস্থিতি বাড়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘দ্য স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০১৬’ (মৎস্য ও মৎস্য চাষের পরিস্থিতি-২০১৬) শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু বার্ষিক মাছ খাওয়ার চেয়ে তিনগুণ বেশি মাছ খাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। বাংলাদেশীরা মাথাপিছু যে পরিমাণে মাছ খায়, তা এখন উন্নয়নশীল দেশের লোকজনের মাছ খাওয়ার গড় পরিমাণের প্রায় সমান।
এফএওর হিসাব অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাথাপিছু মাছের ভোগ ১৮ দশমিক ৮ কেজি আর বিশ্বের মাথাপিছু ভোগ ২০ কেজি। বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু মাছের ভোগ ২৬ দশমিক ৮ কেজি। এফএওর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মৎস্যবিজ্ঞানীরা রুই, কই, পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ার উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন বলেই মাছের উৎপাদন বাড়ছে। এটি দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের পথেও এক ধাপ এগিয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ ও থাই কইয়ের ১১ শতাংশই চর্বি। পাঙ্গাশ মাছের ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ প্রোটিন। আর কই ও তেলাপিয়া মাছে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ১৭ শতাংশ। দেশের মানুষের প্রোটিনের যে চাহিদা, তার ৬০ শতাংশ এখন পূরণ হচ্ছে মাছ থেকে। ১০ বছর আগেও এটি ছিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, শুধু পুকুর বা জলাশয় থেকে আসে মোট উৎপাদিত মাছের ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর নদী বা খাল-বিলের মতো উন্মুক্ত জলাধার থেকে আসে ২৮ শতাংশ মাছ। তবে দেশের দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূল থাকলেও সেখান থেকে মাত্র ১৭ শতাংশ মাছ আসে দেশের বাজারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ লোক মৎস্য খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৮০ হাজার নারী। ৬ বছরে প্রায় ৪১ লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, মৎস্য চাষি ও মৎস্যজীবীদের আয় ২০ শতাংশ বৃদ্ধিকরণ এ খাতের একটি অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত সুফলভোগীদের আয় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ মৎস্য এবং মৎস্যজাত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উত্তম মৎস্যচাষ অনুশীলন প্রবর্তন, ট্রেসিব্লিটি নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং দাফতরিক নিয়ন্ত্রণ প্রটোকল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।