‘রূপালি আঁশে’র আশায় চাষিরা

ক্ষতিকর তামাকের পরিবর্তে রংপুর অঞ্চলে তিস্তার বালুচরে তুলা চাষ করছেন কৃষকরা। এক সময়ের পতিত চরে প্রথমবারের মতো তুলা চাষ করে লাভবান হওয়ায় উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে চাষিদের মধ্যে। আগামীতে ক্ষতিকর তামাকের বিকল্প হিসেবে তিস্তার বালুচরে রূপালি আঁশ বলে খ্যাত তুলা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই রূপালি আঁশ বলে খ্যাত তুলা চাষে সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।

‘মোটা কাপড়, মোটা ভাত_ ফলাই তুলা বুনি তাঁত কিংবা দেশকে যদি গড়তে চাও, রূপালি আঁশের চাষ বাড়াও’_ এমন সব স্লোগানে তুলা চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক ও সুতা রফতানি করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। যার প্রধান উপকরণ তুলা চাষের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের চাষিরাও অর্থনীতির চাকা পরিবর্তন করতে পারেন। এ বছরই প্রথম তামাকের পরিবর্তে চরাঞ্চলে ২০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে।

রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় ক্রমান্বয়ে তুলা চাষের পরিধি বাড়ছে। ২০১২-১৩ মৌসুমে এসব জেলায় এক হাজার ৬০০ হেক্টর, ২০১৪-১৫ মৌসুমে দুই হাজার ২৮০ হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে দুই হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। বর্তমানে উত্তোলন প্রায় শেষ পর্যায়ে। রংপুর জেলায় এ বছর ছয়টি ইউনিটের আওতায় ৮৭৪ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। তবে এবারই প্রথম বরেন্দ্র এলাকায় শস্য বহুমুখীকরণে তুলা চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় তিস্তার চরাঞ্চলে তুলা চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি হারাগাছ পৌর এলাকার তিস্তার চরাঞ্চল ধুমগড়া এলাকায় তুলাচাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকার খামারবাড়ির নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন, সম্প্রসারিত তুলাচাষ প্রকল্পের (ফেজ-১) পরিচালক কৃষিবিদ গাজী ফরহাদ হোসেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ড গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ ড. সীমা কুণ্ডসহ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চরাঞ্চলে তুলা চাষে সফলতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর চর এলাকার ধুমগড়া, চর চতুরা, গঙ্গাচড়া উপজেলার ভাঙ্গাগড়া, চর মর্ণেয়া, লালমনিরহাট সদরের কিনাডুলি, হরিণচড়া, কার্তিক হাজিবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, তিস্তা নদীর চিকচিক করা সাদা বালুতে চাষকৃত রূপালি আঁশ বলে খ্যাত তুলা এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। রংপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চরাঞ্চলে কর্মরত ইউনিট অফিসার আব্দুল মান্নান সরকার জানান, ওইসব চরে উদ্বুদ্ধকরণের মাধমে ৫৫ জন চাষির মাধ্যমে প্রথমে ২০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করা হয়। তিনি জানান, বৃষ্টির পানি জমে না ও গাছের ছায়া পড়ে না এমন উঁচু জমি ও দোআঁশ, বেলে-দোআঁশ ও এঁটেল মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী।

রংপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ জিল্লুর রহমান জানান, তুলা চাষের জমিতে সময় মেনে চললে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে একাধিক ফসলের চাষ করা যায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, ক্ষতিকর তামাক আবাদে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তামাকের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তাদের। এ কারণে প্রতি বছরই তামাক আবাদ কমছে।