মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রুখবে জঙ্গিবাদ

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মোস্তাক নামের এক পাক সেনা আমাকে বলেছিল, ‘তুম হিন্দু হ্যায়। তুমকো শ্যুট করেগা। তুম মুসলমান হো যাও, তুমকো বেহেশতকা দরজা একদম খোলা হ্যায়।’ ১৯৭১ সালে পাক সেনারা হিন্দুদের বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরিক করতে চেয়েছিল। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর তাদের দোসররাই আবার বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে এ দেশের তরুণ-যুবসমাজের একটি বিপথগামী অংশকে মানুষ হত্যার মতো ঘৃণিত কাজে প্রলুব্ধ করছে। শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের মগজ ধোলাই করছে। তাদের দিয়ে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গির্জার পাদ্রি, বিদেশি অতিথি, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক, বুদ্ধিজীবী, লালন সাধক, মুক্তমনা ব্লুগারদের নির্মমভাবে হত্যা করানো হচ্ছে। ইসলাম কেন? পৃথিবীর কোনো ধর্মই মানুষ হত্যাকে অনুমোদন করে না। মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষের মঙ্গলের জন্য এবং মানুষের ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্যই পৃথিবীতে ধর্মের উদ্ভব হয়েছে। আমরা লক্ষ করেছি, বাংলাদেশে যখনই কোনো প্রগতিশীল আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে, তখনই ধর্মের ধোঁয়া তুলে সেই আন্দোলকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এটা এ দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময়ও বলা হয়েছে- আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের নেতারা হিন্দুদের দালাল, ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু। তারা পূর্ববাংলা ও পশ্চিম বাংলাকে এক করতে চায়। কিন্তু এসব অপপ্রচারে জনগণ সাড়া দেয়নি। জনগণ সাড়া দিয়েছে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাষানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথায়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সব গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর ঘুরে নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে এসেছেন। তিনি দেশের কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। তিনিই বাঙালির নাড়ির স্পন্দন ভালো করে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য হলো- ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমানরা তাদের ধর্মকে ভালোবাসে কিন্তু ধর্মের নামে ধোঁকা দিয়ে রাজনৈতিক কার্যসিদ্ধি করতে তারা দেয় না। জনগণ চায় শোষণহীন সমাজ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি।

আজ দেশে যখন যুদ্ধপরাধীদের বিচার হচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার জন্য প্রবল জনমত সৃষ্টি হচ্ছে এবং মাথাপিছু বার্ষিক আয় বাড়ছে, রপ্তানি আয় বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, তখন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে পাকিস্তান আমলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ধরন ও কৌশলের অনেক রূপান্তর ঘটেছে বাংলাদেশ আমলে আলকায়েদা নামে, আইএসএর নামে, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের নামে ও জেএমবির নামে। নিষ্ঠুরতার তীব্রতা বেড়েছে। অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে। ব্যবহার বেড়েছে আধুনিক অস্ত্র, অবৈর্ধ অর্থ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৌশলের। গত ১ ও ২ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বিদেশি জিম্মিসহ যে ২০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঈদের দিন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের সন্নিকটে পুলিশসহ যে ৪ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা রাজনীতির নামে ধর্ম ব্যবসায়ীদের নোংড়া অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরনের নৃশংস, অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় নাগরিককে উদ্বিগ্ন ও বিচলিত করে তুলেছে। আগে ভাবা হতো- মাদ্রাসার গরিব ঘরের ছাত্ররাই এসব জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা মানুষের সেই ধারণাকে ভুল বলে প্রমাণ করেছে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাসম্পন্ন ঘরের উচ্চ শিক্ষিত বিপথগামী সন্তানরা জড়িত। জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, নবর্ষের অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে বোমা হামলা, উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও গৌরবকে ধ্বংসের চক্রান্ত মাত্র। এটাকে অন্যকিছু ভাবার কোনো অবকাশ নেই। একই উদ্দেশে ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. গোবিন্দ দেব, সাংবাদিক শহীদ সাবের, কবি মেহেরুন্নেছা, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, অধ্যক্ষ যোগেশ চন্দ্র ঘোষ, সমাজসেবক নূতন চন্দ্র সিংহ, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক রশিদুল হাসান, প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সাংবাদিক সিরাজ হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, প্রখ্যাত চিকিৎসক ফজলে রাব্বী, আবদুল আলীম চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোর্তজাসহ জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর বহু বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সরকার জঙ্গিবাদের বীজ বাংলার পবিত্র মাটিতে অঙ্কুরিত হতে দেবে না। এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে জঙ্গিমুক্ত করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন করে সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে- এটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহকারীদের শিকড় খুঁজে বের করার ঘোষণা প্রদান করে বলেন, ‘একাত্তরের চেতনায় সবাইকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ হবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। দেশবাসী শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়। সন্ত্রাস চায় না। প্রত্যেক মসজিদে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, এই ধর্মকে কেউ কলুষিত করতে না পারে সেই সচেতনতা জনগণের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে।’ জঙ্গিবাদ সম্পর্কে জাপানি সাংবাদিক তাসুলো নাকাগাওয়া বলেন, ‘এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর সমাধান সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে কেবল অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না। প্রয়োজন বহুমুখী সামাজিক উদ্যোগ ও সচেতনতা। পৃথিবীর বেশির ভাগ সমস্যার মূলে রয়েছে দারিদ্র্য। তাই দারিদ্র্যকে দূর করতে হবে। আর বিশ্ব জুড়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা বেশি বেশি করে প্রচার করতে হবে।’

গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলাসহ দেশব্যাপী গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে এবং জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের অংশগ্রহণে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ থেকে গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় জঙ্গি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করে সন্ত্রাসী জঙ্গিদের খুঁজে বের করা এবং জঙ্গি তৎপরতা প্রতিহত করার যে কর্মসূচি ঘোষাণা করা হয়েছে- তা সঠিক ও অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই ঘোষণাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য সব নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে হবে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমরা দেখেছি, বাঙালি সংস্কৃতির ওপর যতবারই আঘাত এসেছে, ততবারই এ দেশের মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও পেশা নির্বিশেষে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছে। সমবেত হয়েছে শহীদ মিনারে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতরা, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আর এসব আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি হয়েছে কালজয়ী কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ছায়াছবি। শিল্পীরাও অঙ্কন করেছেন বিখ্যাত চিত্র শিল্প। প্রতিবারই জনগণের আন্দোলনের প্রবল স্রোতে কচুরিপানার মতো ভেসে গেছে জনবিচ্ছিন্ন ধর্ম ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র। এবারো তাই হবে। কিন্তু এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিকে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তাদের দেশের সব মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করে গুপ্ত হত্যা, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়কিতার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই চেতনাকে ধারণ করেই সাড়ে সাত কোটি বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। সেই সময় হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের মধ্যে কোনো প্রভেদ ছিল না। যুদ্ধের ময়দানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে ছিল রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাস ও সুকান্তের কবিতা। লালন ফকির, হাসন রাজা ও অতুল প্রসাদের গান এবং জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান। মানুষের স্বপ্ন ছিল অত্যাচার, অবিচার, অনাহার, দুঃখ, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়কিতামুক্ত শোষণহীন সোনার বাংলা- এ কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে।

যে যাই বলুক, একদিনে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না। এর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পরিবারের সরলমনা সন্তানটি যেন কুচক্রীদের পরামর্শে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে বাবা ও মাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন জঙ্গি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। জঙ্গি দমন কাজে নিয়োজিত সরকারি বাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে এই ভয়াবহ দানবের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশের প্রতিটি পৌরসভা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়নে খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মাঠ, খোলা জায়গা ও পার্কের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে; কারণ বেকার মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। প্রতিটি বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি পাঠাগার গড়ে তুলে ছাত্রদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য, একটি মুখের হাসির জন্য একাত্তরে আমারা যে যুদ্ধ করেছিলাম দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করে সেই যুদ্ধে আবার আমাদের জয়ী হতে হবে। কারণ বাঙালি বিজয়ীর জাতি, তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কাছে কোনোদিন পরাজিত হতে পারে না।

নিতাই চন্দ্র রায় : কৃষিবিদ, লেখক।