মানিকগঞ্জে নৌকার হাট

মানিকগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে এখন নদী-নালা, খাল-বিল এমনকি নিচু এলাকার রাস্তাঘাটও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পানিবন্দি মানুষের প্রধান বাহনই হচ্ছে নৌকা। তাই তো নৌকা তৈরি আর বিক্রির ধুম পড়েছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও ঘিওর উপজেলার ঘিওরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে। জেলা ও জেলার বাইরের দূর- দূরান্ত এলাকা থেকে মানুষজন এসব হাটে এসে নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব নৌকা কেনাবেচা বেশি হয় বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। সরজমিন জেলার ঐতিহ্যবাহী হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও ঘিওরে গিয়ে দেখা গেছে, সারি সারি নৌকার পশরা সাজিয়ে বসেছে নৌকার কারিগররা। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই বিশাল দুটি হাটে কানায় কানায় ভরে যায় নৌকায়। আর দরদাম ও দেখেশুনে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে পছন্দের ডিঙ্গি ও কোশাসহ বিভিন্ন নামের তৈরি করা নৌকা। এসব হাটে প্রতি দিন লাখ লাখ টাকার নৌকা বেচাকেনা হয়ে থাকে। ঝিটকা হাটে বেশির ভাগ ক্রেতা আসছে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল থেকে। আর ঘিওর হাটে বেশি দেখা যায় দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনার চরের বিভিন্ন এলাকার মানুষজনকে। কারণ চরের মানুষগুলো বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া কোথাও বের হতে পারে না। নৌকা তৈরির কারিগররা জামরুল, রেইনট্রি, আম, কদম, শিমুল, বৈন্যা, ডোমরা ইত্যাদি কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি, কোশাসহ তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের নৌকা। কাঠ ভেদে নৌকার দামও ভিন্ন হয়। সাধারণ কাঠের তৈরি প্রতিটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে খরচ হয় ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ২২শ’ থেকে ২৫শ’ টাকায়। ভালো কাঠের প্রতিটি নৌকায় খরচ পড়ে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর বিক্রি হয় ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকায়। নিরদ মিস্ত্রি জানান, বর্ষার পানির উপর নির্ভর করে নৌকার দাম। যত বেশি পানি হবে তত নৌকার চাহিদা বেড়ে যাবে আর দামও বেশি পাওয়া যায়। কারিগররা জানান, সাধারণ কাঠের তৈরি নৌকা ২-৩ বছর টিকে। আর ভালো কাঠের তৈরি নৌকা ৫-৬ বছরেও নষ্ট হয় না। হরিরামপুরের আজিম নগর চরের বাসিন্দা হাবিব মিয়া জানান, সারা বছরই আমাদের নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। দুই বছর আগে একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনেছিলাম সেটা পুরাতন হয়ে গেছে। তাই হাট থেকে ২৫শ’ টাকা দিয়ে একটি নৌকা নেয়া হয়েছে। উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার আমজাদ মিয়া জানান, বর্ষার পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাবার আশংকায় আগেই নৌকা কিনতে আসা। ঝিটকা হাট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকা কেনা হয়েছে। ঘিওর নৌকার হাটে নৌকা কিনতে আসা টাঙ্গাইল নাগরপুর উপজেলার বাড়াবুসা গ্রামের তারা মিয়া, মজিদ, হেকমত, জরিপ জানান, তাদের এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। তাই প্রত্যেকে একটি করে নৌকা কিনে একটি পিকআপ ভ্যানে করে এলাকায় নিয়ে যায়। তারা জানান, একেকটা নৌকা ৩ হাজার টাকা করে পড়েছে। এবার দাম অনেক বেশি বলেও তারা জানান। উপজেলার গাংডুবী গ্রামের অমর রাজবংশী জানান, ছোটখাটো বর্ষা হলেই এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। তাই আগেই নৌকা কিনে রাখা হচ্ছে। ২৮শ’ টাকা দিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনেছেন তিনি। ঘিওর হাটের ইজারা সিন্ডিকেটের একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের জয়েন সেক্রেটারি আতোয়ার রহমান জানান, ঘিওরের নৌকার হাট বসে বুধবার। প্রতি হাটে ২শ’ থেকে ৩শ’ নৌকা বেচাকেনা হয়। প্রতিটি নৌকা বিক্রির শতকরা ৩ টাকা হারে হাটের খাজনা নেয়া হয় বলে তিনি জানান।