অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ উন্নয়নদেশের উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, সংস্কার ও কৌশল নির্ধারণ, কলেজগুলোর ব্যবস্থাপনা ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ, শিক্ষক নিয়োগে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নতকরণ ও অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষণ-শিক্ষা পদ্ধতি উন্নতকরণ হবে।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে ‘কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৮০০ কোটি টাকা দেবে। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। উচ্চ শিক্ষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজ সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই মুহূর্তে মানসম্মত শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এজন্য প্রকল্প ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় শিক্ষার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, সংস্কার ও কৌশল নির্ধারণ, কলেজগুলোর ব্যবস্থাপনা ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ, শিক্ষা নিয়োগে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নতকরণ ও অর্নাস মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষণ-শিক্ষা পদ্ধতি উন্নতকরণ হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
একনেক সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৬০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৮০০ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো_ ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত) এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প- যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন বেরাগীর হাট ও চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত) এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। উন্নত জাতের গাভি পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধিত) এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। অন্য উপাদানগুলো এমনকি সুশাসনও শেষ পর্যন্ত মানবসম্পদের মানোন্নয়নের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষা পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখার বিকল্প নেই। আর সবার জন্য শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, বরং দরকার নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা। দেশে এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে নিম্ন উৎপাদনশীলতার রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প, বিদেশে স্বল্পশিক্ষিত শ্রমিক রপ্তানি এবং নিম্ন প্রযুক্তির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হলে এসব ক্ষেত্রে শ্রমিকের প্রশিক্ষণের মান ও উৎপাদনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিকল্প নেই।