পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন

স্থানটি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের পুটিজুরী বন বিটের পাহাড়ি এলাকা। এখানকার টিলায় চাষ হচ্ছে আনারস। এ ফলন দেখতেও সুন্দর। উপজাতি ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা আনারস চাষ করেন। এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে তাদের। চাষিরা মনে করেন এবার আনারস বিক্রি করে তারা খুবই লাভবান হবেন।
এখানকার আনারস বিষমুক্ত। কারণ এর ফলনে কীটনাশকের প্রয়োগ হয়নি। এ আনারস গাছেই পাকছে। তারপর এগুলো বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারের আড়তে নিয়ে যাওয়া হবে কিংবা পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাবেন। বিষমুক্ত বলে এখানকার আনারসের কদর রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। কয়েক বছর আগেও পাহাড়ে প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকত। এসব জমিতে কোনো ফসল চাষ হতো না। দিন দিন লোকসংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে পাহাড়ি পতিত জমিতে আবাদ করে এখন পুরোদমে আনারসসহ নানা ধরনের ফসলের চাষ হচ্ছে। এতে যেমন পতিত জমি উর্বর হচ্ছে, তেমনি বেকাররা কর্মসংস্থান বের করতে পেরেছেন।
আনারস চাষি সাজন বেদবর্মা বলেন, বেকার ছিলাম, এখন বেকার নই। বছরজুড়ে আনারসসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করে সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। তিনি জানান, এখানকার আনারস বিষমুক্ত। শুধু কিছু পরিমাণে সার ও গোবর দেয়া হয়। লোকজন অনেক দূর থেকে আনারস কিনতে আসেন। এ এলাকার আনারস সৌদি আরব, আমেরিকা ও লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে সরবরাহ হয় বলেও জানান সাজন বেদবর্মা। চাষি ফুল মিয়া বলেন, অনেকে পাহাড়ে ১২ মাস আনারস চাষ করছেন। তবে আমরা এক মৌসুমই এ ফল চাষ করছি। কারণ সময়ের ফল সময়ে চাষ করলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হয় না। তিনি বলেন, আর ক’দিন পরেই আনারস পাকা শুরু হবে। এবার আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি ভালো দামও পাব।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ বশির উদ্দিন সরকার বলেন, বিষমুক্ত আনরস চাষ হচ্ছে হবিগঞ্জের পাহাড়জুড়ে। আমাদের পক্ষ থেকে ভালো ফলন পেতে চাষিদের নানাভাবে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। চাষিরা পাহাড়ি পতিত জমিকে উর্বর করে উন্নত জাতের আনারস চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে চাষ হলে আনারস বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। যদিও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু পরিমাণে আনারস প্রবাসীরা খাবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তায় আনারস চাষ হলে এখানে ফলন আরও বেশি হবে।