রপ্তানি আয়ে নতুন মাইলফলক

পণ্য রপ্তানি আয়ে নতুন মাইলফলকে পৌঁছাল বাংলাদেশ। সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪২৪ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে, দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকার সমান। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরের হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি আয়।
গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ১২১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে সর্বশেষ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। এদিকে, গত অর্থবছর রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় ২ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বুধবার বিকেলে রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। এই খাতটি ভালো প্রবৃদ্ধি করায় সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় আছে। গত অর্থবছর শেষে পোশাক খাতে রপ্তানির আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। পোশাক খাতের এই আয় গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। তবে আমরা ২০২১ সালে পোশাক রপ্তানি আয় ৫ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। এ জন্য প্রতিবছর ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে হবে।’
পোশাক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি বলেন, ‘চলতি জুলাইয়ের আগে অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশের উন্নতি করাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতে বিদেশি ক্রেতা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আগের চ্যালেঞ্জগুলোও থাকছে।’
বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস অর্থাৎ জুনে ৩৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ২০১৫ সালের জুনে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩০৬ কোটি ডলার। তার মানে গত জুনে রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১১৬ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। এই আয় তার আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১১৩ কোটি ডলারের চেয়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। পাট ও পাটজাত পণ্যে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে গত অর্থবছর।
এ ছাড়া বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছে ৫৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্যে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার, প্রকৌশল পণ্যে ৫১ কোটি ডলার, ওষুধসহ রাসায়নিক পণ্যে ১২ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশে-বিদেশে কিছু অনিশ্চয়তার জায়গা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবার বেশি হবে, এমনটাই পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে ব্রেক্সিটের কারণে সেটি কিছুটা কম হতে পারে। সেটি হলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে সে দেশে পণ্য রপ্তানিতে প্রভাব পড়তে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে গুলশানে যে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও রপ্তানিতে বড় প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন সিপিডির গবেষক মোয়াজ্জেম।