লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল রফতানি আয়

রেমিট্যান্স কমলেও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে রফতানি আয়। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় বেশি হয়েছে ২ দশমিক ২১ শতাংশ। রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। আয় দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪২৪ কোটি ডলার। চার অর্থবছর পর রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলো। এ আয় আগের অর্থবছর (২০১৪-১৫) থেকে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত মে মাসের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শেষ মাস অর্থাৎ জুনে ২৮৩ কোটি ডলারের প্রয়োজন ছিল। এ মাসে আয় হয়েছে ৩৫৮ কোটি ডলার।

চলতি সপ্তাহে গত অর্থবছরের রেমিট্যান্সের তথ্য প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায় প্রবাসীরা আগের অর্থবছরের তুলনায় আড়াই শতাংশ অর্থ কম পাঠিয়েছেন। রফতানি ও রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ করে। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, মূলত প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি আয়ের ওপর ভর করেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিন হাজার ৪২৪ কোটি ডলারের মধ্যে পোশাক থেকেই এসেছে দুই হাজার ৮১০ কোটি ডলার। পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির সমকালকে বলেন, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং পোশাক খাতের সংস্কারের বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতারা বাংলাদেশকে আবার আস্থায় নিয়েছেন।

রফতানি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা চলতি অর্থবছরে এ খাতে বেশ কিছু ঝুঁকি দেখছেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, পোশাক প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্ক ছাড়িয়ে যাওয়া এবং গোটা রফতানি প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের কাছাকাছি পেঁৗছানো অবশ্যই একটা ভালো লক্ষণ। তবে এ ধারা অব্যাহত থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া, বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে আসার পূর্বাভাস, মুদ্রা বিনিময় হারের প্রতিকূলতা ও রফতানি প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশ আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি চলে আসাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আবার অভ্যন্তরীণভাবে দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনাও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে মাথায় রেখে পরিকল্পনা নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সালে ছয় হাজার কোটি ডলার রফতানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তাতে পাঁচ হাজার কোটি ডলারই আসার কথা পোশাক রফতানি থেকে। অর্থাৎ আগামী ৫ বছরে বর্তমানের আয় প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। এ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, এ লক্ষ্য কিছুটা কঠিন, তবে অর্জন করা সম্ভব। মোহাম্মদ নাছির বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অতিরিক্ত দুই হাজার ১৯০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করতে হবে। তবে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রতিযোগী দেশের সরকারের পোশাক খাতে যে সব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সে সব বিবেচনায় নীতিসহায়তা দিতে হবে সরকারকে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাকের ওভেন থেকে আয় এসেছে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ডলার। এখাতের নিট থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ডলার। পোশাক রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ হার ছিল ৪ শতাংশ। অবশ্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরের হার ছিল ১৪ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাকের বাইরে কয়েকটি বড় পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, চিংড়ির কমেছে ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চামড়ায় কমেছে ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ, পাটের বস্তা ও ব্যাগে ১২ দশমিক ১৩, চায়ে ৩০ দশমিক ৪২ ও প্লাস্টিক রফতানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে রফতানি বেড়েছে কাঁচাপাটে ৫৫, ওষুধে ১৩, চামড়াজাত পণ্যে ৫৬, জাহাজে ২৫ ও ফার্নিচারে ১৯ শতাংশ। অর্থবছরের সর্বশেষ মাস জুনের রফতানি এ মাসের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং আগের বছরের জুনের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। ৩২৮ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আয় হয়েছে ৩৫৮ কোটি ডলার।