এডিপি বাস্তবায়ন ৯২ শতাংশ

এক মাসেই খরচ হয়েছে ৩০ শতাংশ অর্থ

সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১১ মাস পর্যন্ত (জুলাই-মে) সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ জুন মাসে সে এডিপি বাস্তবায়নের হার এক লাফে ৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এক মাসে এডিপিতে খরচ হয়েছে ৩০ শতাংশ অর্থ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় অন্যদের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এ কে এম মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ শতাংশ। তার আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯৩ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ আরএডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল। সে হিসাবে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন অন্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন, অর্থবছরের তিন প্রান্তিক পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) এডিপিতে অর্থ খরচ হয় না। শেষ প্রান্তিকে টাকা খরচের হিড়িক পড়ে যায়। এতে করে এডিপির অর্থের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থবছর পরিবর্তনের পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরু থেকেই যাতে এডিপি বাস্তবায়ন বাড়ে সে জন্য ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো আগেভাগেই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কাগজপত্র যাতে দ্রুত অনুমোদন করা যায়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালে কোনো ভৌত কাজ করা যায় না। তা ছাড়া কাজ হলেও অর্থবছরের শেষে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করায় মনে হয় এক মাসে অনেক বেশি এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুকনো মৌসুমেই যাতে প্রকল্পের ভৌত কাজ সম্পন্ন করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন বলছে, বিদায়ী অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৯৭ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে তা কমিয়ে ৯৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তার মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে সক্ষম হয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অব্যয়িত রয়ে গেছে ছয় হাজার কোটি টাকা। খরচ করতে না পারার কারণে প্রতিবছর শেষে এভাবে এডিপি থেকে অর্থ ফেরত যায়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পুরো বছরেই কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল অত্যন্ত নাজুক। তার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, সেতু বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়নকারী ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলো হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১০ লাখ টাকা। কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ২৩.১০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৩৩.৩৬ শতাংশ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪১.৯১ শতাংশ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ৫১.২৩ শতাংশ, শিল্প মন্ত্রণালয় ৫৪.১২ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬০.৬৪ শতাংশ, অর্থ বিভাগ ৬১.৫৩ শতাংশ, সেতু বিভাগ ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে ৬৯.৬০ শতাংশ। – See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2016/07/13/380171#sthash.B54lYdwa.dpuf