একনেকে প্রকল্প উঠছে আজ ১০ জেলায় হচ্ছে ই-কোর্ট রুম

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে বিচার ব্যবস্থাপনায়। মামলাজট নিরসনের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে সারা দেশে স্থাপন করা হচ্ছে ই-কোর্টরুম। স্থাপন করা হবে বেশ কয়েকটি ডাটা সেন্টার। প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন বিচারকদের পাশাপাশি সহায়ক কর্মকর্তারা। সারা দেশে এ ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রাথমিক অবস্থায় প্রযুক্তির আওতায় আসছে ১০ জেলা। এসব জেলায় ২৬২ ই-কোর্টরুম স্থাপনে ব্যয় হবে ৩২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজ রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
অনুমোদন পেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রস্তাবিত ই-জুডিশিয়ারি পাইলট প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, নাটোর, যশোর, মৌলভীবাজার ও রংপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে সারা দেশে প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিচার ব্যবস্থার জন্য প্রাশাসনিক ও বিচারিক সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা হবে। বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২৬২ ই-কোর্টরুম স্থাপন করা হলে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি জানতে পারবেন। মামলার রায় সম্পর্কেও তারা জানতে পারবেন মোবাইলের পরিষেবা ব্যবহারের মাধ্যমে। নিজের মোবাইল না থাকলে অন্য কারও মোবাইল বা কম্পিউটার সেবা কেন্দ্র থেকেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। মামলার তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের মধ্যে বিচারসংশ্লিষ্টরা সহজেই তথ্য পাবেন। পুরনো মামলার রেকর্ড এবং রায়ও সংরক্ষণ করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রল্পের আওতায় ১০ জেলার ২৬২টি কোর্ট রুমকে ই-কোর্ট রুমে রূপান্তর করা হবে। বিচারকদের দেয়া হবে ১ হাজার ৬৫০টি ট্যাব অথবা ল্যাপটপ। তাছাড়া রেকর্ড রুম স্বয়ংক্রিয় করা, পুরনো রেকর্ড রুমের আধুনিকায়ন, বিচার ব্যবস্থার জন্য এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার উন্নয়ন, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং (ইআরপি) উন্নয়ন, বায়োমেট্রিক অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেম চালু করা হবে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর ২৯ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী অর্থবছর এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এতে ব্যয় হবে ১৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ৩ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৩২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বিষয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আয়োজন করে পরিকল্পনা কমিশন। বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে কমিটি। কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রযুক্তির সময়োচিত ব্যবহারের দ্বারা বিচার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব। সার্বিক বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।