ভৈরবে মাছ চাষে সচ্ছলতা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাছ চাষ বাড়ছে। স্বল্প খরচে মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছেন অনেক বেকার যুবক। তাদের অনেকেই আবার মৌসুমি মাছ চাষি। তারা অবসর সময়ে এ কাজ করে থাকেন। এতে তাদের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। ফলে এলাকায় দিন দিন মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
মৎস্য চাষিরা জানান, হাওর অঞ্চলের প্রবেশমুখ মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় অবস্থিত ভৈরবে অসংখ্য ডোবা-নালা ও নিচু জমি রয়েছে। এসব জলাভূমিতে সারা বছর মাছ চাষের মতো পানি থাকে না। সামান্য পানিতে চাষিরা মাছের পোনা ছেড়ে পরিচর্যা করেন। পরে বর্ষার সময় এসব জলাভূমি পানিতে টইটুম্বর হয়ে ওঠে। এ সময় বেড়ে ওঠে মাছ। দলবদ্ধভাবে আবার কোথাও এককভাবে এসব মাছ চাষ করেন মৎস্যজীবীরা। এতে বেকারত্ব দূর হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।
মৎস্য চাষি উপজেলার তুলাকান্দির মোয়াজ্জেম ও ছাগাইয়া গ্রামের আবু লায়েছ মিয়া জানান, তেলাপিয়া, সিলভার, সরপুঁটি, গ্রাসকার্প, রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি জাতের মাছের চাষ করা হয়। বর্ষার পানিতে মাছের উৎপাদন খুব ভালো হয়। এক বিঘার খামারে ৫০ হাজার টাকার পোনা ছাড়লে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ উৎপাদন হয়। এতে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। খামারের শ্রমিক হারেছ মিয়া, সুবির দাস, কুদ্দুছ মিয়া ও নরেন্দ্র দাস জানান, এসব মাছের খামার হওয়ায় তারাও বেশ উপকৃত হচ্ছেন। তারা খামারে কাজ করে মজুরির পাশাপাশি বিনামূল্যে মাছ পেয়ে থাকেন। এতে তাদের পরিবারে আমিষের চাহিদা পূরণ এবং উপার্জন- দুটোই হচ্ছে। ভৈরব উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খামারিরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের প্রয়োজনে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ নানা পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।