ব্যাংকিং সেবার আওতায় তিন হাজার পথ ও কর্মজীবী শিশু

২০১৪ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গেল দুই বছরে ৩ হাজার ১৯২ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোর ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। এ সময় পথশিশুর পুঞ্জীভূত সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ১২ হাজার টাকা। দেশের ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে পথশিশুদের এসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ তিন মাসে খোলা হয়েছে ১৫৮টি ব্যাংক হিসাব। দেশের ১১টি এনজিওর সহায়তায় পথশিশুদের এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ১০ টাকার নামমাত্র জামানতে পথশিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনার পর এনজিও প্রতিনিধিদের সহায়তায় ব্যাংকগুলো পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের জন্য হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পথশিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থানে যেমন বস্তি, রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও ফুটপাতে বসবাসরত পথশিশু এবং কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের ব্যাংকিং সেবায় আনার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা তৈরি, কষ্টে উপার্জিত অর্থের সুরক্ষা, পথভ্রষ্ট হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করাসহ তাদের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যাংক হিসাব খোলার মহতী উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অধিকাংশ পথশিশু কোনো অভিভাবক না থাকায় এনজিও প্রতিনিধিদের এ কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১০টি ব্যাংক পথশিশু ও কর্মজীবী-কিশোরদের ব্যাংক হিসাব খোলার দায়িত্ব নেয়। পরে আরও পাঁচটি ব্যাংক এ মহতী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়। এগুলো হল-সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ শেষে পথশিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯৮৫টি হিসাব খুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। মাসাস ও সাফ নামে দুটি এনজিওর সহায়তায় এসব হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ তিন মাসে খুলেছে ৩৯টি। ব্যাংকটিতে এসব হিসাবধারী পথশিশুর পুঞ্জীভূত সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ৫২২টি ব্যাংক হিসাব খুলে দ্বিতীয় অবস্থানে পূবালী ব্যাংক। ব্র্যাক, অপরাজেয় বাংলাদেশ ও নারী মৈত্রী এই তিন এনজিওর সহায়তায় এসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ তিন মাসে খোলা হয়েছে ২০টি। এই ব্যাংকে পথশিশুদের সঞ্চয় রয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার টাকা।
উদ্দীপন নামের একটি এনজিওর সহায়তায় তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৫৩টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকে। এর মধ্যে শেষ তিন মাসে খোলা হয়েছে ৫৩টি। এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮০টি, ওয়ান ব্যাংক ২৩২টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৬৩টি, ব্যাংক এশিয়ায় ১৬২, দ্য সিটি ব্যাংক ১৪৯টি, উত্তরা ব্যাংক ৫২টি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২৪টি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৩৪টি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১৯টি, এনসিসি ব্যাংকে ১৫টি ও সোনালী ব্যাংক ৪টি অ্যাকাউন্ট খুলেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তাকারী অন্য এনজিওগুলো হচ্ছে-সাজিদা ফাউন্ডেশন, প্রদীপন, এএসডি, সিপিডি ও পরিবর্তন।