ঈদে মুখরিত সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠেছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। যেনো পর্যটকের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট। ঈদ আনন্দে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে চলছে দর্শনার্থীদের বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। পর্যটকের পদভারে এখন মুখরিত সিলেটের অর্ধশত পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র। তাই সিলেটে লেগেছে নতুন প্রাণের ছোঁয়া। ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্পট থেকে অন্য স্পটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট মেট্টোপলিটন ও জেলা পুলিশ বিশেষ নিরপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। এ কারণে স্বস্তিবোধ করছেন পর্যটকরা।
ঈদের দিন থেকে সিলেটে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। কেউবা ঈদের নামাজ শেষে পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ধরেছেন সিলেটমুখী গাড়ি। আবার কেউ কেউ রাতে বের হয়েছেন সিলেটের নয়নাভিরাম পর্যটন স্পটের আকর্ষণে। সিলেট পৌঁছে কোনো বিশ্রাম ছাড়াই পর্যটকরা তাদের ঘুরে বেড়ানো শুরু করেন।
সিলেট নগরীর শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে পর্যটকরা সিলেট ভ্রমণ শুরু করেছেন। সিলেট নগরীর ওসমানী শিশু উদ্যান, ক্বীন ব্রিজ, ঐতিহাসিক আলী আমজদের ঘড়ি, সারদা হল, নয়নাভিরাম চা-বাগান, নগরীর উপকণ্ঠে পর্যটনকেন্দ্র, এভভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, ড্রিমল্যান্ডে সময় কাটিয়ে ছুটছেন বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রে।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ঈদে বাইরে ঘুরে বেড়াতে অনেকেই সপরিবারে বের হয়েছেন, কেউ বা এসেছেন প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে। শিশুরা পার্কে বিভিন্ন রাইড চড়ছে, মশগুল হয়ে আছে হাসি-আনন্দে। নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ে বঙ্গবীর ওসমানী শিশু উদ্যান নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত। নাগরদোলা, ম্যাজিক শো, বাম্পার রাইড, গেম অব ডেঞ্জার, লেকে নৌকা চড়া, রেলগাড়ি, স্লিপার ইত্যাদি রাইডে শিশু-কিশোরদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়। অভিভাবকরা রাইডগুলোর আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে ব্যস্ত খোশগল্পে।
হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়নমেন্ট’র প্রধান নির্বাহী আবদুল হাই আল-হাদী বলেন, সিলেট নগরীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের চা-বাগান ঘুরেই পর্যটকরা ছুটছেন জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য ও জাফলংয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের খোঁজে। এছাড়া বাংলাদেশের আমাজান খ্যাত গোয়াইনঘাটের রাতারগুল পর্যটন কেন্দ্রেও এবার ঢল নেমেছে পর্যটকদের। নির্জন মনকাড়া লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যে কোনো পর্যটকের কাছে দুলর্ভ আকর্ষণ।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা মানবকণ্ঠকে বলেন, এবারে পর্যটকদের ভিড় অনেক বেশি। তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া সাদা পোষাকেও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন পর্যটকও থাকবেন ততক্ষণ পুলিশ সেখানে অবস্থান করবে।