স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাব সাড়ে ১০ লাখ ছাড়াল

স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাব সাড়ে ১০ লাখ ছাড়ালনিজস্ব প্রতিবেদক: খুব দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম। বর্তমানে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ৫৫টিই স্কুল ব্যাংকিং চালু করেছে। ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাব সাড়ে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব হিসাবের বিপরীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের পুঞ্জীভূত সঞ্চয় রয়েছে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। আর সরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলায় এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলতে ২০১০ সালের নভেম্বরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ইয়ং স্টার’ ‘ফিউচার স্টার’, ‘প্রজন্ম স্টার’সহ নানা নামে ব্যাংকগুলো চালু করেছে বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিম। এসব স্কিমের বিপরীতে তুলনামূলক সুদের হারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশ স্কুল শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতেই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দিকে কিছুটা কম থাকলেও ক্রমান্বয়ে এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। সামনের দিনে এ হিসাব খোলার প্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ক্ষুদে সঞ্চয়ীদের খোলা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৪টি। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩টি। তিন মাসের ব্যবধানে স্কুল শিক্ষার্থীদের হিসাব বেড়েছে ৩১ হাজার ১২৯টি। তবে এই তিন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের হিসাব বাড়লেও সঞ্চয় স্থিতি সামান্য কমেছে। গেল বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত খোলা হিসাবগুলোর বিপরীতে স্কুল শিক্ষার্থীদেরও সঞ্চয় ছিল ৮৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তিন মাস পর তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত পল্লী শাখায় ৪ লাখ ২ হাজার ৭০৪টি এবং শহরে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৯টি হিসাব খোলা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এই হিসাব খোলা ও জমার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। আলোচ্য সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৯২টি হিসাবের বিপরীতে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৫টি হিসাবের বিপরীতে ৭৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭টি হিসাবের বিপরীতে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও বিদেশি ব্যাংকে (সিটি ব্যাংক এনএ ছাড়া) ১ হাজার ২৯৯টি হিসাবের বিপরীতে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ শেষে সবচেয়ে বেশি হিসাব খোলা হয়েছে ইসলামী ব্যাংকে ২ লাখ ২ হাজার ৯৯৯টি, যা মোট হিসাবের ১৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এরপর অগ্রণী ব্যাংকের ১ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮টি হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৪টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৯৭ হাজার ২৬০টি এবং উত্তরা ব্যাংকে ৭৪ হাজার ৬৬৮টি হিসাব খোলা হয়েছে। অন্যদিকে মার্চ শেষে টাকা জমার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট স্থিতির ৩৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এরপর ইসলামী ব্যাংকে ৮৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৭৬ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৭৬ কোটি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সঞ্চয় স্থিতি রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এক পরিপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে উল্লেখ করা হয়, সঞ্চয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা হলে দেশের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে। এ অবস্থায় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে স্কুল ব্যাংকিং প্রচলন করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ন্যূনতম ১০০ টাকা জমা দিয়ে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা যায়। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিভাবকরা এসব হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন। হিসাব খোলার সময় হিসাবধারী এবং পরিচালনাকারী উভয়ের জন্ম-পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে ব্যাংককে। হিসাবে জমাকৃত অর্থের উেসর আইনগত বৈধতাও নিশ্চিত হতে হবে। হিসাব পরিচালনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে কোনো রকম চার্জ আদায় করা যাবে না। এসব হিসাব সাধারণ চলতি হিসাবেও রূপান্তরের সুযোগ আছে।