ঝিনুক চাষে সরকারের উদ্যোগ ভিয়েতনাম থেকে উপহার হিসেবে আসছে ২০০ কেজি ঝিনুক

ঝিনুক চাষে সরকারের উদ্যোগ : ভিয়েতনাম থেকে উপহার হিসেবে আসছে ২০০ কেজি ঝিনুকবাণিজ্যিকভাবে ‘ঝিনুক’ চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ভিয়েতনাম থেকে প্রজননে সক্ষম উন্নতমানের দুইশ’ কেজি ঝিনুক আসছে। ভিয়েতনাম সরকার এটি উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছে এ মাসে। পরে ঝিনুক আনতে হলে প্রতি কেজি ১৫ ডলার অর্থাৎ প্রায় এক হাজার দুইশ’ টাকা হিসাবে মূল্য দিতে হবে।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, পোশাক ও চিংড়ি খাতের মতো বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক চাষের দিকে ঝুকছে সরকার। ভিয়েতনাম সরকার ২০০ কেজি ঝিনুক সরবরাহ করছে, যা এ মাসে আসার কথা। ভিয়েতনামের ঝিনুক ও বাংলাদেশের ঝিনুকের মধ্যে আকারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে ঝিনুক চাষ ইতিবাচক মর্মে ভিয়েতনামের একজন গবেষক রিপোর্ট দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
একাধিক মৎস্য বিজ্ঞানী জানান, একটি উন্নতমানের ঝিনুক থেকেই ১৮-২০টি মুক্তা পাওয়া যায়। সারাবিশ্বে মুক্তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চীন, ভারত, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, জাপান ও ভিয়েতনাম মুক্তা রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বাংলাদেশও সেই লক্ষ্যে ঝিনুক চাষ করতে যাচ্ছে।
তারা জানান, চিংড়ির পাশাপাশি দেশে বাণিজ্যিকভাবে ‘কাঁকড়া’র চাষ হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত কাঁকড়া মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের অনেক দেশে রফতানি হচ্ছে। ঝিনুক চাষও বাণিজ্যিকভাবে হলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে এখনো বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুকের চাষ শুরু হয়নি। তবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় কিছু কিছু ঝিনুক চাষ করা হচ্ছে। এগুলোর আকার ছোট এবং ভেতরে থাকা মুক্তাগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির। এসব মুক্তা দেশীয়ভাবে বাজারজাত করা কিছুটা গেলেও বাণিজ্যিকভাবে রফতানির সুযোগ কম।
মুক্তার চাষ গবেষণা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অরুন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ভিয়েতনাম আমাদের কিছু ঝিনুক দিতে রাজি হয়েছে। সেখানকার এক বিশেষজ্ঞ আমাদের বিভিন্ন এলাকার পানি ও মাটি পরীক্ষা করেছেন। তার পরীক্ষায় উঠে এসেছে ‘ঝিনুক’ চাষ উপযোগী পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। এমনকি বিএফআরআইয়ের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫টি পুকুরকে চিহ্নিত করে গেছেন। ভিয়েতনামের দেয়া ঝিনুকগুলো এসব পুকুরে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক চাষের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে চীনসহ উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। চীন তাদের প্রযুক্তি শেয়ারে আপত্তির বিষয়টি সরাসরি বাংলাদেশকে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে বিকল্প দেশ হিসেবে ভিয়েতনামকে বেছে নেয় সরকার। এরই প্রেক্ষিতে এপ্রিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ভিয়েতনামে যায় এবং সেখানকার সরকারের সঙ্গে ঝিনুক চাষ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক চাষ প্রত্যক্ষ করেন।