রাজহাঁসে অর্থ ও পুষ্টি

রাজহাঁস পালন করে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন মেহেরপুরের গৃহিণীরা। মেহেরপুরের কুলবাড়িয়া, চাঁদপুর, বৈকুণ্ঠপুর, সুবলপুর, নিশ্চিন্তপুর, গাড়াবাড়ে, দাড়িয়াপুর, গাংনী, বামুনদী গ্রামের হাজারো গৃহিণী মিনি খামার করে রাজহাঁসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন। এসব গ্রামে পানি ও ডাঙায় ঝাঁক বেঁধে রাজহাঁসের রাজসিক বিচরণের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া জেলার মুজিবনগর সড়কে ভৈরব নদীর দুই পাশে ও পানিতে রাজহাঁস ঝাঁক বেঁধে চলতে দেখা যায়।
মেহেরপুর জেলাজুড়ে ২৯ কিলোমিটার ভৈরব নদ। এছাড়া জেলার উত্তর-পূর্বাংশজুড়ে রয়েছে মাথাভাঙ্গা নদী এবং নাব্য হারিয়ে ফেলা কাজলা ও মরাগাং নামের নদী, মুজিবনগরের স্বরসতী খালসহ অসংখ্য খাল-বিল। ভৈরব নদসহ এসব নদী ও খাল-বিল পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার গৃহিণী প্রায় পাঁচ লাখ রাজহাঁস পালন করছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা।
সরেজমিন মেহেরপুর সদর উপজেলার রাইপুর খাঁ পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠে চরছে কয়েকশ’ রাজহাঁস। এসব হাঁসের মধ্যে ওই পাড়ার গৃহবধূ শাহিদা খাতুনের রাজহাঁসে অর্থ
ষ শেষ পৃষ্ঠার পর
১২টি, সানোয়ারার ১৬, ফজিলা খাতুনের ১০, রহিমা খাতুনের ১৪, বৃষ্টি আক্তারের ৮, জালেমন বেগমের ১৮, ফেরদৌসির ১৫, বানুয়ার ১৩টি হাঁস রয়েছে। এসব হাঁসসহ এলাকার আরও কিছু গৃহবধূর রাজহাঁস আশপাশের ধান ক্ষেতে চরছে। এসব গৃহবধূ জানালেন, হাঁস বিক্রি করে যে অর্থ আসে তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগান দেয়ার পাশাপাশি সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাতে স্বামীকে সহযোগিতা করেন তারা।
মেহেরপর ভৈরব নদ পাড়ের গ্রাম যাদবপুর। ওই গ্রামের মোমেজানকে দেখা যায় ভৈরব পাড়ে রাজহাঁস চরাতে। তিনি বলেন, তার আছে ৩৬টি রাজহাঁস। তিনি সকাল বেলা হাঁসগুলো ছেড়ে দেন। ওই হাঁসগুলো নদীতে নেমে ঘুরে বেড়ায়। দুপুরের দিকে একবার খোঁজ নিয়ে যান। আবার সন্ধ্যার আগে হাঁসগুলো তাড়িয়ে নিয়ে ঘরে তোলেন। হাঁস পালনের জন্য তার বেশি পরিশ্রম ও খরচ করতে হয় না। দিনে একবার বাড়িতে খেতে দিলেই হাঁসগুলোর চলে যায়। তারা নদের কচুরিপানা ও এটা-সেটা কুড়িয়ে খায়। তিনি বলেন, ভৈরব পাড়ের গোভীপুর, রাজাপুর, রাধাকান্তপুর, বন্দর, মোনাখালী, দারিয়াপুর, শিবপুর, জগন্নাথপুর, রামনগর, রশিকপুর, মহাজনপুর, কোমরপুর, ইসলামপুর, যতারপুর, পিরোজপুর, গোপালপুর, আশরাফপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক গৃহিণী আছেন যার ৫০ থেকে ৬০টি করে রাজহাঁস রয়েছে। তিনি আরও জানান, একেকটি হাঁস ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। ২০০ টাকা কেজি দরে রাজহাঁস বিক্রি হয়। এক জোড়া রাজহাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। আর বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী ডিম ১০০ টাকা জোড়া দরে বিক্রি হয়।
সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের গৃহবধূ নার্গিস জানান, তার ছিল ৪০টি রাঁজহাস। ঈদের আগে স্বামীর হাতে ঈদ খরচ না থাকায় তিনি ১০টি হাঁস বিক্রি করেছেন ১২ হাজার টাকায়। তার একেকটি হাঁসের ওজন ৫ থেকে ৭ কেজি। ঈদ আনন্দের জন্য তিনি তার স্বামী ও দুই ছেলেকে ঈদের পোশাক কিনে দেয়ার পাশাপাশি স্বামীর হাতে ৪ হাজার টাকা ঈদ বাজারের জন্য তুলে দিয়েছেন। এছাড়া ঈদের দিন একটি রাজহাঁস জবাই করে স্বামীর মাংস কেনার খরচ বাঁচিয়েছেন। মেহেরপুর জেলা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রফিক-উল আলম বলেন, গ্রাম-গঞ্জের এসব গৃহিণীর অধিকাংশই বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে রাজহাঁস পালন করছেন।