বিনোদন ও সাহিত্য খাতে বাড়ছে বিনিয়োগ

বিনোদন ও সাহিত্য জগতে প্রতি বছরই বিনিয়োগ বাড়ছে এবং এ খাত আরও বিকশিত হচ্ছে। প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও মূল্য সংযোজন করছে। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটক, গান ও বই প্রকাশনা এই চারটি খাতে ২০১৩-১৪ তে বিনিয়োগ হয়েছে ১৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর আগের বছর বিনিয়োগ হয়েছিল ১৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই চার খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে ২০১৩-১৪ তে জিডিপিতে এই চার খাত থেকে মূল্য সংযোজন হয়েছে ১১৭ কোটি ৮৫ টাকা। আগের বছর মূল্য সংযোজন হয়েছিল ৯৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূল্য সংযোজন বেড়েছে ২১ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিনোদন ও সাহিত্য জগৎ নিয়ে করা রিপোর্ট অন প্রাইভেট সেক্টর গ্রোস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন ইন ইন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড লিটারেসি সার্ভে ২০১৫-এর ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার জরিপের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে বিবিএস। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিবিএস মহাপরিচালক আবদুল ওয়াজেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার, অতিরিক্ত সচিব বাইতুল আমিন ভূঁইয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন কর্মসূচি পরিচালক আবদুল খালেক।
আবদুল খালেক বলেন, ছবি, টিভি নাটক, গান ও বই প্রকাশনা এই চারটি খাতের ওপর জরিপটি করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, প্রতি বছর এই চার খাতে কত টাকা বিনিয়োগ হয়। এছাড়া জিডিপিতে কি পরিমাণ মূল্য সংযোজন করে এবং ভোগ তৈরি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল ওয়াজেদ বলেন, এত বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিরূপণের সময় বিনোদন ও সাহিত্য জগতের অবদান কত, তা অনুমানের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হতো। এখন যেহেতু জরিপের ফলাফল পাওয়া গেছে, এখন থেকে এই জরিপের তথ্যের আলোকেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিরূপণ করা সহজ হবে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ধারাবাহিক নাটকের (সিরিয়াল) সংখ্যা বাড়ছে । অন্যদিকে প্যাকেজ নাটকের (৪০ মিনিটের) সংখ্যা কমছে। জনপ্রিয়তার কারণে ‘টেলিফিল্ম’ নির্মাণও বাড়ছে। বিবিএস বলছে, ২০১২-১৩ সালে দেশে ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়েছিল ৭ হাজার ৬৩৮টি। পরের বছর সেটি বেড়ে ২০১৩-১৪ সালে ১০ হাজার ৪১টিতে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণের হার বেড়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর ঠিক উল্টো চিত্র প্যাকেজ নাটকে। ২০১২-১৩ সালে যেখানে প্যাকেজ নাটক প্রচারিত হয়েছিল ২৭১টি; পরের বছর তা কমে ২৬৬ তে নেমে এসেছে। বিবিএস বলছে, সাদা-কালোর যুগ পেরিয়ে রঙিন ও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় গত এক দশকে ছবি নির্মাণে খরচ বেড়েছে। এছাড়া এককালে আলমগীর, রাজ্জাক, শাবানা-ববিতার মতো জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকারা যে পারিশ্রমিক পেতেন; এখনকার নায়ক-নায়িকারা পান তার কয়েকগুণ বেশি। এ সময়ে আগমন হয়েছে অনেক শিল্পীর, বিকশিত হয়েছে সাহিত্য জগৎও।
বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, দেশে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে গড়ে খরচ হয় ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া একজন নায়কের গড় পারিশ্রমিক ১৫ লাখ টাকা। আর নায়িকার গড় পারিশ্রমিক ১০ লাখ টাকা। নতুন একটি গান তৈরিতে খরচ হয় গড়ে ৩১ হাজার টাকা। আর একটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি থেকে শুরু করে লেখকের রয়্যালটি দেয়া পর্যন্ত মোট খরচ হয় ৪৭ হাজার টাকা। জরিপে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ সালে দেশে একটি ছবি নির্মাণ করতে খরচ হতো ৮৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সেটা বেড়ে ২০১৩-১৪ সালে হয়েছে ৯৭ লাখ টাকা। যদিও পাশের দেশ ভারতের বলিউডে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের ছবি নির্মিত হয়েছে বাহুবলি ১৫০ কোটি রুপিতে। আর গড় ছবি নির্মিত হয়ে কয়েক কোটি টাকায়।