বীজের জন্য করলা চাষ করে কৃষকের সফলতা

মিঠাপুকুরের রাণীপুকুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলী, ১০ একর জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি সবজি হিসেবে বাজারে বিক্রি না করে বীজ করেন সবটুকু ক্ষেতের করলা। শুধু হায়দার আলীই নয়- তার ছেলে রবিউল ইসলাম, নাজমুল হকসহ নয়াপাড়া, পাইকান, আফজালপুর ও হাবিবপুর গ্রামের হাজার কৃষক বীজ উত্পাদনের জন্য করলা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

এসব এলাকায় উচ্ছা, জংলী ও স্থানীয় জাত চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে বীজ উত্পাদন হচ্ছে স্থানীয় জাতের বেশি। অন্যান্য জাতের চেয়ে এই জাতের বীজে উত্পাদন ক্ষমতা বেশি বলে জানান কৃষকরা। প্রায় ৪০ বছর আগেকার কথা। নয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর বাবা আফাজ উদ্দিন প্রথম শুরু করেন করলা বীজ উত্পাদন। প্রথম সময়কার দিকে নিজের জমিতে চাষাবাদের জন্য এই বীজ সংগ্রহ করা হতো। ধিরে ধিরে প্রসার ঘটে এই বীজ উত্পাদন প্রক্রিয়ার। আশপাশের এলাকা থেকে করলা চাষিরা বীজ কিনে নিয়ে আসেন। শুরু হয় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে করলা বীজ সংগ্রহের কাজ। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় ওই গ্রামের অন্য চাষিরাও শুরু করেন করলা বীজ সংরক্ষণের। আফাজ উদ্দিন বেঁচে নেই রয়েছে করলার বীজ উত্পাদনের কাজ। নয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলী বলেন, আমার সবটুকু জমিতে করলা চাষ করেছি। করলা বীজ বিক্রি করে অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ করা যায়। প্রথম দিকে আমার বাবা করলা বীজ উত্পাদন শুরু করেছিলেন। তার দেখাদেখি আশপাশের গ্রামের কৃষকরা করলা বীজ শুরু করে। তিনি আরে বলেন, অনেক স্থানেই এখন করলা বীজ উত্পাদন করা হয়। কিন্তু রাণীপুকুর এলাকার করলা বীজ বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এই বীজ দিয়ে অধিক উত্পাদন সম্ভব। তাই প্রতিদিন পাইকাররা এখানে এসে বীজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম বলেন, মিঠাপুকুরের রাণীপুকুর ও লতিবপুর ইউনিয়নের সাত/আট গ্রামের প্রায় এক হাজার কৃষক করলা বীজ উত্পাদন করেন। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত এসব বীজের গুণগত মান অনেক উন্নত। উত্পাদন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।