যোগাযোগ খাতে বিস্ময়কর অগ্রগতি

সরকার অবকাঠামো খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের সার্বিক কল্যাণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে এটা করা হয়েছে। এবার বাজেটে অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ সর্বোচ্চ। দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন যে চমকে দেওয়ার মতো, তা স্বীকার না করে উপায় নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে রূপান্তরের স্বপ্ন ছিল শেখ হাসিনা সরকারের। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে। এর কাজ শেষ। আগামী ২ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সময় লাগবে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। এতে যোগাযোগ খাতের যে উন্নতি সাধিত হলো, এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে। ফলে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এ বন্দরের অপরিসীম গুরুত্বের কথা সবার জানা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এতদিন ধরে দুই লেনে থাকায় যানজট লেগেই থাকত। ঢাকা থেকে অনেক পোশাক পণ্যভর্তি গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে সমস্যায় পড়ে যেত। এতে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। পাশাপাশি বিদেশি পোশাক আমদানিকারকরা দেরিতে পোশাকপণ্য পাওয়ায় নাখোশ হন। এখন আর সে সমস্যায় পড়তে হবে না। ঢাকা থেকে দ্রুত পোশাক পণ্যভর্তি গাড়ি চট্টগ্রাম পৌঁছে যাবে। ২ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন করা ছাড়াও একই দিন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন চার লেনের জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের। এ মহাসড়কটিও চার লেন করার দাবি ছিল অনেক দিনের। এটি পূরণ হওয়ায় দেশের যোগাযোগ খাতের দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নতি সাধিত হলো।

সরকার সারাদেশের মহাসড়কগুলোকেই চার লেনে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অনুমান করা যায়, গুরুত্ব অনুবাধন করে এগুলার কাজ শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেতুমন্ত্রী ঢাকা-আরিচা মহাসড়ককে চার লেনে রূপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ঢাকা-আরিচা এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ গুরুত্বম-িত মহাসড়কটিকে দ্রুত চার লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
দেশের অবকাঠামোর উন্নতির ওপর দেশের সার্বিক উন্নতি নির্ভরশীল- তা মানতেই হবে। বর্তমান সরকার সেটা অনুধাবন করে বলেই যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে আমরা বলেছি যে, দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এর উন্নয়ন দ্রুত ঘটাতে হবে। রাজধানী ঢাকার যানজট কমানোর লক্ষ্যে এবং রাজধানীবাসীর যাত্রায়াত সহজতর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেছেন। অত্যাধুনিক এ ট্রেনে যাত্রীরা আরামের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে সময়ও কম লাগবে।

রাজধানীতে পাতালরেল এবং দেশে বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা সরকারের মাথায় রয়েছে। অবকাঠামো খাতের এই বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে দেশ আরও অগ্রসর হবে। মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজভাবে যেতে পারবে। মানুষের এই সহজ যাতায়াতের সঙ্গে দেশের উন্নয়নও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলে আমরা মনে করি। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উন্নত যোগাযোগের আওতায় চলে আসবে। ট্রেনে ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘণ্টা। বর্তমান সরকার সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এটাকে আমরা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। উন্নত বিশ্বে সড়ক যোগাযোগকে সর্বাধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রেলকেও তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় বলতে হচ্ছে, রেল বিভাগ চারটি অঞ্চলে ভাগ করে এর দ্রুত উন্নতি সাধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রেলকে পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলেই রেখে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। শোনা যাচ্ছে, রেল মন্ত্রণালয়ের একটি মহল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নানা কূটকৌশলে বাস্তবায়ন না করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা ঠিক হবে না বলে আমরা মনে করি। রেলকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হলে রেলের দ্রুত উন্নতি সাধিত হবে। সরকারের শীর্ষ মহল যেন এটি মাথায় রেখে রেলকে সম্প্রসারিত এবং এর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেয়।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে দেশের অবকাঠামোর যে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, তা অভাবনীয়। এতে দেশের উন্নতিও ত্বরান্বিত হবে। যোগাযোগ খাতের বিস্ময়কর উন্নতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনসহ সামগ্রিক অর্থনীতির ভিত্তিকে মজবুত এবং দৃঢ়তা দেবে।