ইজিপিপিতে কাজ পেয়ে হতদরিদ্রদের মুখে হাসি

সারিয়াকান্দি উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) ১ হাজার ২৫০ নারী-পুরুষের সাময়িক কর্মসংস্থান হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার অধিকাংশ পরিবারই যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার। ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজন বাড়িঘর হারিয়ে যখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছিল, তখন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, হাটবাজার উন্নয়নে মাটি কটার কাজ করছে হতদরিদ্র এসব নারী-পুরুষ। বেকার বসে থাকা এ মানুষগুলোর রমজানে কাজ পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে। ৪০ দিন কাজ করে প্রত্যেক শ্রমিক পাবেন ৮ হাজার টাকা। এ টাকায় এবার তাদের পরিবারের সদস্যদের ঈদ ভালোভাবে কেটে যাবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তঘাট হাট-বাজার উন্নয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে যারা কাজ করছেন, তারা সমাজের অতিদরিদ্র গরিব অসহায়। অতিকষ্টে তাদের সংসার চলে। শুধু তা-ই নয়, এদের ভালো শারীরিক যোগ্যতা না থাকায় তারা অন্য কোনো কাজও করতে পারে না। আবার যদি কেউ কাজে নেয়, তবে তাহলে মজুরি একেবারেই কম দেয়া হয়। যমুনা ও বাঙ্গালি নদীবিধ্বস্ত সারিয়াকান্দি উপজেলায় এ ধরনের শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা অনেক। শারীরিক যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কর্মসংস্থান খুঁজে নিতে সক্ষম হলেও শারীরিক অযোগ্যতা ও অতিদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষরা নিজ এলাকায় কষ্টে দিন পার করে আসছেন। তাদের জন্যই সরকারের এ কর্মসূচিতে ১২ ইউনিয়নে ৩৩টি বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে সাড়ে ১২শ’ পুরুষ ও নারী শ্রমিক কাজ পেয়েছেন। অতিদরিদ্র পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা কাজ পেয়ে তারা এখন খুশিতে আছেন। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করছেন এবং দৈনিক ২০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। এ মজুরির টাকা ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন। ৪০ দিন কাজে তাদের মোট মজুরি পাবেন ৮ হাজার টাকা। ঈদের আগে তাদের সংসারে অনেক টাকা।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবাইল বাজার থেকে নির্মাণাধীন ডিডিএম ব্রিজ হয়ে পুরাতন হাটশেরপুরগামী রাস্তা সংস্কার কাজে যোগ দেয়া নারী শ্রমিক মিটেনা বেগম, ইমিলে বেগম, রওশন আরা বেগম জানান, আমরা সমাজের অতিদরিদ্র লোকজন। তার ওপর আবার শারীরিক যোগ্যতা ভালো না থাকায় কেউ আমাদের কাজে নিতে চায় না। আবার কেউ কাজে নিলেও মজুরি দেয় একেবারেই কম। তারা বলেন, জীবন বাঁচাতে আমরা রিলিফ চাই না। কাজ করে অন্যদের মতো সম্মানজনকভাবে বাঁচতে চাই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সারওয়ার আলম জানান, সমাজে অবহেলিত এবং অতিদরিদ্র মানুষগুলোকে এ কর্মসূচিতে কাজ দেয়ায় আসন্ন ঈদে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা আসবে। তাদের কাজ সন্তোষজনক।