উপজেলায় যাচ্ছে টেলিটক থ্রিজি

২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) টেলিটকম সেবা চালু করে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক। এ লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি। প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৬০০ বিটিএস টাওয়ার নির্মাণ হলেও টেলিটকের থ্রিজি সেবা সীমাবদ্ধ রয়েছে বিভাগীয় ও জেলা শহরে। ৪ বছরে টেলিটকের থ্রিজি গ্রাহক মাত্র ১৭ লাখ ২৮ হাজার। টেলিটকের দেখানো পথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থ্রিজি সেবা চালু করে অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি অপারেটরের থ্রিজি সেবা। পথপ্রদর্শক হয়েও থ্রিজি সেবায় টেলিটক পিছিয়ে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। উপজেলা পর্যায়ে টেলিটকের থ্রিজি সেবা পৌঁছে দিতে নেয়া হচ্ছে থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২ দশমিক ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ফেজ-২) প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকা। এতে ৬০৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। অবশিষ্ট অর্থ টেলিটক সরবরাহ করবে। এ বছরের জুলাই থেকে শুরু করে আগামী বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ টাওয়ার স্থাপন করা হবে।
এর মাধ্যমে টেলিটকের থ্রিজি গ্রাহক বাড়বে ১৭ লাখ। প্রকল্পের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জানা যায়, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাম্প্রতিক সময়ে জোরেশোরে রিব্র্যান্ডিং শুরু করেছে টেলিটক। ‘হাসিমুখে নতুন পথে’ সেøাগানে নতুন যাত্রা শুরু করেছে সরকারের প্রতিষ্ঠানটি। এরই অংশ হিসেবে লোগো ও সেøাগানে পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। রিব্র্যান্ডিংয়ের ধারাবাহিকতায় নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে উপজেলা শহরে থ্রিজি প্রযুক্তি এবং ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে ২ দশমিক ৫জি প্রযুক্তি নেই। তাই উপজেলা শহরে থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালুকরাসহ ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে ২ দশমিক ৫জি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ পাবে টেলিটকের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক সেবা। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে টেলিটক কম খরচে ইন্টারনেট ও ভয়েস কল সেবা দিতে সক্ষম হবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় থ্রিজি চালু হয়েছেÑ এমন এলাকায় এইচএসপিএ+ প্লাটফরম স্থাপন করা হবে। ই-গভার্ন্যান্স, ই-শিক্ষা কার্যক্রম, ই-হেলথ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য টেলিটকের উচ্চগতির ইন্টারনেট প্লাটফরম তৈরি সম্ভব হবে। অধিক সংখ্যক থ্রিজি এবং ২ দশমিক ৫জি সংযোগ দেয়ার মাধ্যমে দেশে টেলিডেনসিটি বাড়ানো যাবে। এর ফলে টেলিটকের থ্রিজি গ্রাহক সংখ্যা আরও সাড়ে ১৭ লাখ বাড়বে। জানা যায়, বাংলাদেশে গ্রাহকদের সর্বপ্রথম থ্রিজি সেবা দেয়া শুরু করে টেলিটক। চীনের অর্থায়নে থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ এবং ২ দশমিক ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালে বাস্তবায়ন করা এ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দেড় হাজার বিটিএস স্থাপনের মাধ্যমে সব জেলা ও বিভাগীয় সদর দফতরে থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। ২ হাজার ১০০ বিটিএস টাওয়ারের মাধ্যমে দেয়া হয় ২ দশমিক ৫জি সেবা। ফলে টেলিটকের ১৭ লাখ ২৮ হাজার গ্রাহক থ্রিজি সেবার আওতায় এসেছেন। ২ দশমিক ৫জি সেবা গ্রহণ করছেন টেলিটকের প্রায় অর্ধলাখ গ্রাহক।