বরেন্দ্র অঞ্চলের বিষমুক্ত আমের চাষ বেড়েছে

রাজশাহী, গোদাগাড়ী, তানোর ও নাচোলে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উত্পাদনে কাজ করে আসছে গত চার বছর ধরে। এসব আম দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিষমুক্ত আম চাষে বিপ্লব ঘটেছে। রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীমউদ্দীন বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম গতবছর ইউরোপসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়েছিল।

চলতি মৌসুমে আম রপ্তানি হবে। তিনি আরো বলেন, আম সময়মতো গাছেই পেকে যায়। পুরোপুরি পেকে যাওয়ার আগে গাছ থেকে আম সংগ্রহ করতে হবে। সময়ের আগে আম সংগ্রহ করলে সে আম অপরিপক্ব থেকে যায়। তখন আম পাকাতে কেমিক্যাল মিশানোর প্রয়োজন হয়। গাছের আম পরিপক্বতার সময় হচ্ছে ২৫ মে’র পর গোবিন্দভোগ, ৩০ মে’র পর গুলাবখাস, ১ জুনের পর গোপালভোগ, ৫ জুনের রানী পছন্দ, ১২ জুনের পর হিমসাগর (ক্ষিরসাপাত), ১৫ জুনের পর ল্যাংড়া, ২০ জুনের পর লক্ষণভোগ, ১ জুলাই থেকে আম্রপলি ও মল্লিকা, ৭ জুলাই থেকে ফজলি, ২৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা।

তবে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগে গাছের আম পেকে যেতে পারে। প্রশাসন সময় বেঁধে দেয়ায় গত তিন বছর ধরে বাজারে বিষমুক্ত ও নিরাপদ পরিপক্ব আম পাওয়া যাচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উত্পাদন করে লাভবান হওয়ায় চাষিরা ধান, গমের পাশাপাশি ফসলি জমিতে আম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে করে বরেন্দ্র অঞ্চলে আম চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, জমিতে আম গাছ রোপণের একবছর পরই ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ফসলি জমিতে আম গাছ রোপণ করলেও ধান, গমসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা হয় বেশ কয়েক বছর ধরে। এজন্য চাষিরা ফসলি জমিতে ধাম, গম চাষের সঙ্গে আম গাছ রোপণ করতো।

বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উত্পাদনে প্রশাসন, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সম্বলিত উদ্যোগের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে আম চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও চাষিদের নিয়ে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে।