জাতীয় ফল কাঁঠালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতে চাষকৃত কাঁঠালের জাত হলো- গালা ও খাজা। গালা ও খাজা কাঁঠালের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ‘রসখাজা’। এছাড়াও আছে রুদ্রাক্ষি, সিঙ্গাপুর, সিলোন, বারোমাসী, গোলাপগন্ধা, চম্পাগন্ধা, পদ্মরাজ, হাজারী প্রভৃতি জাতের কাঁঠাল। তবে এদের মধ্যে হাজারী কাঁঠাল বাংলাদেশে আছে, বাকিগুলো আছে ভারতে।

কাঁঠালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আশার খবর হলো- ভারতীয় উপমহাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে ফলটিকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে কাঁঠাল জনপ্রিয় করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কাঁঠাল বাণিজ্য থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। প্রবাসী বাঙালীরা বাংলাদেশী কাঁঠাল খুব বেশি পছন্দ করেন। কয়েক বছর ধরে হবিগঞ্জের বড় ও ভাল কাঁঠাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যে লন্ডন, সৌদি আরব, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানমতে, দেশে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর কাঁঠাল আবাদ হয়, তাতে উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার টন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ১০ টন কাঁঠাল।উৎপাদন কয়েকটি জেলায় সীমাবদ্ধ যেমন- দিনাজপুর, ঢাকা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় উৎপাদন হচ্ছে- প্রায় দেড় লাখ টন। এছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, সিলেট ও পাবনা জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন হয়। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারীভাবে অত্যন্ত পুষ্টিকর কাঁঠাল ফলের ফলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর।

ভালুকার কাঁঠাল রাজ্য

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো গ্রামেই কমবেশি কাঁঠাল বাগান রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ছোট বড় কাঁঠালগাছ রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন প্রায় ১২ হাজার ৭০০ টন। শুধু ভালুকায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। সিডস্টোর বাজারের আড়তে ও খুচরায় প্রতিদিন ৪০ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হয়।

পাহাড়ের টিলায় কাঁঠাল

হবিগঞ্জের পাহাড়ী এলাকায় রয়েছে অনেকগুলো কাঁঠালের বাগান। তুলনামূলকভাবে মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ার কারণে এখানকার কাঁঠালের চাহিদা বেশি। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয় কমবেশি ১০ হাজার টন। রামগড়ের পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ প্রায় তিন বছর সফল গবেষণার পর বারি কাঁঠাল-৩ নামের বারোমাসি কাঁঠালের নতুন জাত উদ্ভাবন করেন। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বেতছড়ি, মধ্যবেতছড়ি, মেরুং, ছোট মেরুং, পোমাংপাড়া, জাম্বুড়াপাড়া, রশিকনগর এলাকায় কাঁঠাল বাগানচাষী রয়েছে।

সংরক্ষণে জাগবে সম্ভাবনা

জাতীয় ফল কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি। কোলস্টেরলমুক্ত এই ফলে নেই কোন ক্ষতিকারক চর্বি। কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। কাঁঠাল পাকলে কোষ খাওয়া হয়, এই কোষ নিঙড়ে রস বের করে খাওয়া হয় এবং তা শুকিয়ে আমসত্ত্বের মতো ‘শাঁঠালসত্ত্ব’ও তৈরি করা যায়। সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল পচেগলে নষ্ট হয়। কৃষকদের স্বার্থে ভালুকায় ও হবিগঞ্জে হিমাগার স্থাপন করা জরুরী। প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কাঁঠাল রফতানি করেও প্রচুর বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করাও সম্ভব।