যানজটমুক্ত রাজধানী গড়তে মেট্রোরেল

রাজধানীর যানজট দূর করার লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলায় সরকার কয়েকটি পদক্ষেপও নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেট্রোরেল নির্মাণ। উন্নত বিশ্বের অনেক শহরেই মেট্রোরেল, পাতালরেল রয়েছে। এতে চলাচল করে আরাম পাওয়া যায়। কম সময়ে প্রচুর লোকও এতে যাতায়াত করতে পারে। আসছে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর মেট্রোরেলের উদ্বোধন করবেন। অবশ্য বেশ আগে থেকেই এর কাজ শুরু হয়েছে। এতে করে রাজধানীবাসী দৃশ্যমান কাজ দেখেছে। বর্তমানে রাজধানীতে যানজট ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছেছে। এ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু কোনো উদ্যোগই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। দিন দিন যানজটে নগরবাসীর কাহিল অবস্থা। যানজটের কারণে প্রতি বছর লোকসান হচ্ছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। যেভাবে যানজট চলছে, এটা চলতে থাকলে লোকসান আরও বাড়তে থাকবে। তবে যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা বাস্তবায়ন করাটা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে মেট্রোরেল বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আশা করা যায় অল্প সময়েই যানজট কমে আসবে। তীব্র যানজটের হাত থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে। পত্রিকার বিবরণে জানা যায়, বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল ও বিআরটিএ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর অবকাঠামো উন্নয়নের দুটি বড় প্রকল্পের নির্মাণযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করবে ঢাকাবাসী। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) অংশ হিসেবে পাঁচটি রুটে নির্মাণ করা হচ্ছে মেট্রোরেল। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটি-৬ রুটের নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে।

পত্রিকার বিবরণে জানা যায়, মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে বাস্তবায়ন। ইতোমধ্যে ডিপো উন্নয়নের কাজও শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পটি উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যেই মতিঝিল পর্যন্ত এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আর ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে মেট্রোরেল বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করবে। স্টেশন থাকবে ১৬টি। আর প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে এ রুটে। মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর চিত্রই পাল্টে যাবে। তখন যানজটে পড়ে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। তবে রাজধানীর যানজটের জন্য বিশেষভাবে দায়ী ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ওপর সরকারের দায়িত্বশীলরা এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। মাঝেমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টরা মোটরগাড়ি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু কার্যত কথার কোনো বাস্তবায়ন নেই। রাজধানীর যানজটে প্রতি বছর এক লাখ কোটি টাকা লোকসান হয়। রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে এবং এটা কমিয়ে আনলে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে। সরকার মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা চালু হতে সময় লাগবে। আবার চালু হলেও একমাত্র মেট্রোরেলই রাজধানীর সব যানজট কমিয়ে আনবে- এটা ভাবাও বোকামি হবে। তবে মেট্রোরেল রাজধানীর যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তোলায় বিশেষ সহায়তা করবে। কিন্তু আমরা বরাবরই জোর দিয়ে বলে আসছি যে, রাজধানীতে গণপরিবহনের সুযোগ-সুবিধা কম। আমাদের উন্নত মানের গণপরিবহন চালু করার দিকে ঝুঁকতে হবে। লক্কড়ঝক্কড় মার্কা অনেক বাস রাজধানীতে চলাচল করে। গণপরিবহন চলাচল নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি। যে কেউ চাইলেই গণপরিবহন চলাচলের জন্য অনুমতি পাবে না। এ নিয়ে অনিয়ম রয়েছে, এটা দূর করা জরুরি।

যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল বিশেষ ভূমিকা রাখবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সরকার মেট্রোরেলের পরিধিও বাড়ানোর চিন্তা করছে- এটাও ভালো লক্ষণ। তবে সরকার যত যাই করুক, রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি। যে পরিমাণ গাড়ি রাজধানীতে চলে তা বিস্ময়কর। সরকারের শীর্ষ পর্যায় বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবলেই অবাক হবে। রাজধানীর সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য।