কমবে পানির খরচ, সাশ্রয় হবে জ্বালানি শুকনা পদ্ধতিতে ধান চাষ

শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মশিউর রহমান। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত কাদা করা জমিতে বোরো ধান চাষের তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বোরো ধান চাষ যে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, তা-ও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিনাজপুর, রংপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলে দেশীয় জাতের বিরিধান-২৮ ও বিরিধান-৫৮ চাষ করে কম খরচে বেশি ফলন পেয়েছেন কৃষক।
শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষের গবেষণায় ড. মশিউরের সহকারী হিসেবে ছিলেন মোঃ জয়েন উদ্দিন, পিএইচডি শিক্ষার্থী শাহজাহান সরকার এবং রিসার্চ ফেলো মোজাহার হোসেন। গবেষণা সম্পর্কে ড. মশিউর বলেন, শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করার জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বীজ বপন করতে হয়। বীজতলা তৈরি করার কোনো প্রয়োজন হয় না। সামান্য অঙ্কুরিত বীজ জো অবস্থায় সরাসরি জমিতে লাইন ধরে বপন করতে হয়। ফেব্রুয়ারিতে বপনের ফলে আমন ধান কাটার পরে সরিষা, আলু বা অন্যান্য রবিশস্য চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। প্রচলিত কাদা পদ্ধতিতে যেখানে ১৫ থেকে ৩০ বার সেচ দিতে হয়, সেখানে চার থেকে আটবার সেচেই এ পদ্ধতিতে ফসল ফলানো যায়। ভূগর্ভস্থ পানি খুব সামান্য উত্তোলন করতে হয় বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের খরচ কম হয়। জমিতে পানির পরিমাণ কম থাকায় কাদা পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কম হয়। এ পদ্ধতিতে ধানের জীবনকাল ১৫ দিন কমে যায়। প্রচলিত পদ্ধতির তুলায় এ পদ্ধতিতে ধানের ফলন বেশি হবে বলেও জানান তিনি। গবেষণা সহকারী মোঃ জয়েন উদ্দিন বলেন, এ প্রযুক্তির একমাত্র সীমাবদ্ধতা ছিল আগাছা, যা নিবিড় গবেষেণায় স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইউরিয়া সার কিছুটা বেশি প্রয়োগ করতে হয়। এরই মধ্যে নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিনাজপুর, রংপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলে দেশীয় জাতের বিরিধান-২৮ ও বিরিধান-৫৮ চাষ করে কম খরচে বেশি ফলন পেয়েছেন বলে জানান কৃষক।
এ পদ্ধতি সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মোঃ মশিউর রহমান আরও বলেন, শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ বর্তমানে একটি পরিপক্ব, লাভজনক ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি। পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করলে পানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে যেমন লাভবান হবেন কৃষক, তেমনি লাভবান হবে দেশ।