১৩টি অর্থনৈতিক জোনে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১৩টি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় এর অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারী পর্যায়ের এবং বাকিগুলো সরকারী তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠবে।

শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদান, পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক জোন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মংলা অর্থনৈতিক জোনের ডেভেলপার নিয়োগ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা’ নামক এক প্রকাশনায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এসব অর্থনৈতিক জোনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা পাল্টে যাবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক জোনে ২ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে রফতানি প্রক্রিয়া অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেই খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৮ জেলায় ১২টি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক জোন অনুমোদন পাওয়ার পর শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপক মলয় চৌধুরী জানান, বাগেরহাট জেলার মংলা সমুদ্র বন্দরের কাছে ১১০ একর জমির ওপর একটি, মংলা ইপিজেডের পাশে ২০৫ একর জমির ওপর একটি, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের তেতুলতলায় ৫৯৪ একর জমির ওপর একটি, খুলনার তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাঁতী মৌজায় ৫১০ একর জমির ওপর একটি, কুষ্টিয়ায় ৫০৭ একর জমির ওপর একটি, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় ৩০৪ একর জমির ওপর একটি, ভোলা জেলা সদরে ৩০০ একর জমির ওপর একটি, বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া উপজেলায় ২০২ একর জমির ওপর একটি, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় ২০০ একর জমির ওপর একটি, একই জেলার গোবরায় ৫২৫ একর জমির ওপর একটি, শরীয়তপুর জেলার জাজিরায় ৭৫০ একর জমির ওপর একটি, একই জেলার গোসাইরহাটে সরকারী উদ্যোগে একটি এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় ৮০ একর জমির ওপর বেসরকারী উদ্যোগে অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে।

আগামী বছর থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে এসব অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক জোনে সয়াবিন তেল, সুপারি, বাইসাইকেল, তাবু, ক্যামেরার লেন্স, কেমিক্যাল শিল্প, প্লাস্টিক দ্রব্য, এনার্জি সেভিং বাল্ব, গাড়ির যন্ত্রাংশ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, চশমা, ব্যাটারি, ধাতবশিল্প, গলফ শ্যাফট, জুতার এক্সোসরিজ ইত্যাদি উৎপাদন হবে।

অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দেশীয় শিল্পপতিরা ছাড়াও জাপান, কোরিয়া, ভারত, পানামা, তুরস্ক, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ করবে।

জানা যায়, পশুর নদীর তীরে বন্দর এলাকায় ১৯৯৮ সালে ২৫৫ একর জমির ওপর মংলা ইপিজেড গড়ে ওঠে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম রফতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল। এখানে ২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অপটিক্যাল, পলেথিন, পাটের দড়ি ও সুপারি উৎপাদন হচ্ছে। ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই ইপিজেড থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭৭ ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি হয়।

এ প্রসঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. মোঃ সাইফুজ্জামান জানান, অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ এক দফা জরিপ করে গেছে। প্রস্তাবিত আগৈলঝড়া অর্থনৈতিক জোন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। এখানে জোন স্থাপিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। বরিশালের পাশাপাশি গোপালগঞ্জের মানুষেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি মনি চাকমা জানান, ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুতকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় চরমোকামপুর ও চররূপপুর এলাকায় অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে।

তিনি জানান, এ দুই মৌজায় ৫০৭ একর জমি ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হয়েছে। জমির মূল্য নির্ধারণ করার জন্য প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখানে অর্থনৈতিক জোন স্থাপিত হলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।