চরাঞ্চলে বিদ্যুতের আলো

স্বাধীনতার কয়েক বছর পর নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লার দুর্গম চরাঞ্চল বক্তাবলী ইউনিয়নের চররাজাপুর গ্রামে গড়ে ওঠে বসতি। বর্তমানে সেখানে ১০ সহস্রাধিক মানুষ বসবাস করেন। অথচ অবাক হলেও সত্য, একবিংশ শতাব্দীতে যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বক্তাবলীর ওই গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা ছিল দিনের আলো। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর হয়ে এলেও সেখানে এত দিন লাগেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। তবে গ্রামের ১০ সহস্রাধিক বাসিন্দার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন ফতুল্লার দুই ইউপি চেয়ারম্যান। এতে করে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে গ্রামবাসী।
চররাজাপুর গ্রামের বর্ষীয়ান ব্যক্তি আবদুল মজিদ মাতবর জানান, স্বাধীনতার কয়েক বছর পরই চররাজাপুর গ্রামে বসতি গড়ে ওঠে। শুরুতে হাতেগোনা কিছু বাড়িঘর থাকলেও চার দশকে সেখানে এখন ১০ সহস্রাধিক লোকের বসবাস। তবে ৪০ বছরেও ওই গ্রামে পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো। অনেক জনপ্রতিনিধি বিগত দিনে স্বপ্ন দেখালেও তারা এর বাস্তবায়ন করেননি। তবে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম সাইফ উল্লাহ বাদল কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এবং সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গ্রামটিকে তারা আলোকিত করবেন। এদিকে শুক্রবার সকালে চররাজাপুর গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন শুরু করেছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে বিদ্যুতের তারের মাধ্যমে বিভিন্ন বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিপিডিসির ঠিকাদার দীপু। তিনি জানান, ঈদের আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।
বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, বক্তাবলী ইউপি সদস্য আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ ফারুক হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, স্থানীয় মুরুব্বি আবদুল মজিদ মাতবর, হাজী বাদশাহ মিয়া, রহিম মিয়া, হাজী শফিক উদ্দিন, আক্কাস আলী, সানাউল্লাহ, কবির হোসেন, যুবলীগ নেতা আলীম শেখ, হামিদ প্রধান, মহিউদ্দিন প্রধান, শহীদ মিয়া, আমীর হোসেন, মোফাজ্জল প্রমুখ।
খুঁটি স্থাপনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাইফ উল্লাহ বলেন, আমি কথা দিয়েছিলাম, এখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করব। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমি আমার দেয়া ওয়াদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। শামীম ওসমান সংসদ সদস্য হওয়ায় আজ এ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। অতীতে অনেকে এ এলাকার এমপি হয়েছেন, কিন্তু কেউ এখানে বিদ্যুৎ এনে দিতে পারেননি। তারা কেউ এ অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেননি। আগামীতে নারায়ণগঞ্জের কোনো জায়গা বিদ্যুৎহীন থাকবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রতি দেন।