কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ সরকারের

অপরাধীরা জেল থেকে বেরিয়ে পাবে ভাল চাকরি। নিজে কিছু করে খেতে পারবে। মহিলা বন্দিরাও জেলের ভেতর হয়ে উঠছে সুদক্ষ কর্মী। তাদের তৈরি নকশী কাঁথা বা স্যালোয়ার-কামিজ বেত ও বাঁশের তৈরি সোফা ও চেয়ার-টেবিল ইতোমধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছে অভিজাত বিপণি বিতানগুলোতে। জেলের অপরাধীদের দিয়ে নানামুখী কাজ শেখানো ও করিয়ে নেয়ার মধ্যদিয়ে দেশের কারাসেক্টরকে সংশোধানাগার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবেই ইতোমধ্যে সরকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংশোধনাগারে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার আহমেদের তত্ত্বাবধানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের পরিবেশ বদলে ফেলা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কারাকর্তৃপক্ষ। কারা সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৯ হাজার বন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে যারা দীর্ঘমেয়াদে কারান্তরীণ রয়েছে-তাদেরকে ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, রেডিও, টিভি, ফ্রিজ এবং কম্পিউটার মেরামতের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। একাধিক প্রশিক্ষক এ কাজে যুক্ত আছেন। এছাড়াও মহিলাদের জন্য বিউটি পার্লার, সেলাই প্রশিক্ষণ ও নকশী কাঁথা তৈরির কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আহমেদ বলেন, বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতে তাদের আত্মীয় স্বজনকে যাতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সে জন্য সাক্ষাৎকার কক্ষে একজন ডেপুটি জেলারের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। তিনি বলেন, মুড়ি ও পাউরুটিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর ভেতর এক সময় কারাগারে মাদক পাচার হত-সেগুলো চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে এখন সেসব বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার এবং আমি একাধিকবার জেলের ভেতর পরিদর্শন করি বন্দিদের কথা শুনি এবং সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গির আলম বলেন, কারাবিদ্রোহ এবং বন্দি পলায়ন এড়াতে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৬টি সিসি টিভি ছাড়াও একাধিক ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো জেলকে একটা নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে। যার ফলে নাশকতামূলক তৎপরতা বা কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো এখন সম্ভব নয়।

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি এখন যে সব বন্দী কারাগার থেকে বের হবে, তারা কর্মঠ এবং বিভিন্ন কাজে দক্ষ। সুতরাং এসব বন্দী বাইরে গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার পথ পাবে এবং কলুষ ও অপরাধ মুক্ত তথা কর্মময় জীবন বেছে নেবে। সম্পাদনা: সৈয়দ নূর-ই-আলম