তিনগুণ লাভের ফসল বিলাতি ধনিয়া পাতা

কেউ বলে বিলাতি ধনিয়া পাতা, কেউ বলে বনঢুলা, আবার কেউ বলে হজ পাতা। ভর্তা ও সবজিকে সুগন্ধি করাসহ স্বাদ বাড়াতে এ ধনিয়া পাতার ভূমিকা অপরিসীম। বিলাতি ধনিয়া পাতা কড়া সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় ভর্তা, ভাজি, সালাদ, সবজিসহ যে কোনো খাবারে আলাদা স্বাদ তৈরি হয়। উৎপাদন খরচের চাইতে তিনগুণ বেশি লাভ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের হারিন্দা, মধুখালী, গুতিয়াবো, দাউদপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, কাজীরটেক, হানকুর, আমদিয়া, বেলদী, জিন্দা, বইলদা, কুলিয়াদী, বীর হাটাব, কালনী, ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক, আতলাপুর, বাসুন্দা এলাকায় এ ধনিয়া পাতার ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
জানা যায়, বিলাতি ধনিয়া পাতার তীব্র সুগন্ধের কারণে বাজারে এর আলাদা চাহিদা রয়েছে। ফলন নষ্ট কম, খরচের চাইতে লাভের পরিমান তিনগুণ আর টানা ফলনসহ বীজ থেকে আলাদা উপার্জনের কারণে রাজধানীর পাশের রূপগঞ্জের কৃষকরা এ ধনিয়াপাতা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ধনিয়া পাতা যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিদিন বিকালে পাইকাররা এসে কৃষকদের কাছ থেকে বিলাতি ধনিয়া কিনে নিয়ে যায়। এসব ধনিয়া পাতা রাতেই ট্রলার অথবা পিকআপ ভ্যানে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যান তারা। প্রতি কেজি বিলাতি ধনিয়া পাতা পাইকারের কাছ বিক্রি করা হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আর মুঠি বিক্রি করা হয় ২ থেকে ৫ টাকা করে।
হারিন্দা এলাকার কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, বিলাতি ধনিয়া পাতার চাহিদা রোজার মাসে ব্যাপক। আবার এ সময়টাতে দেশি ধনিয়া পাতা বাজারে তেমন পাওয়া যায় না। এ কারণে বিলাতি ধনিয়া পাতার চাহিদা রয়েছে। ইফতারের সময় মুড়িতে, ভাতের সঙ্গে খাবারের জন্য ভর্তা ও সবজিতে এর ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এ ধনিয়া পাতার বীজ থেকেও বাড়তি উপার্জন হয়। এ কারণে তারা বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষাবাদ করেন। আর টানা চার মাস ফলনসহ খরচের তুলনায় তিনগুণ লাভ পাওয়া যায় বিলাতি ধনিয়া পাতায়। এ ধনিয়া পাতা চাষ করে স্ত্রী-সন্তান, পরিজন নিয়ে সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন। শুধু মোতালিব মিয়া নন হারিন্দা, দাউদপুর, মাধবপুর ও জিন্দা এলাকার শতাধিক চাষি বিলাতি ধনিয়া পাতা চাষ করে আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। দাউদপুর ইউনিয়নের হানকুর এলাকার ইব্রাহীম মিয়া জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এ বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষাবাদ করে আসছেন।